জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে আশাবাদী বিএনপি। তবে এই ঐক্য গড়তে হলে বিশ দলীয় জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেয়ার শর্ত দিয়েছে বেশ কয়েকটি দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, ঐক্যের স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে বাদ দিতে প্রস্তুত আছে বিএনপিও।
ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক দিন ধরেই জাতীয় ঐক্য গড়তে চাইছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে ডক্টর কামাল হোসেনের গণফোরাম, সাবেক বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আবদুর রবের জাসদসহ ছোট ছোট দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। তবে জামায়াতকে রেখে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিরোধী এসব দলগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডক্টর কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর উচিত আর দেরি না করে এখনই একটি সঙ্গতিপুর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া। যৌথ ভাবে নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্তে আসা। জামাতকে আরো আগেই বাদ দেয়া যেত যদি এই জোটে বামপন্থি দলগুলো যোগ দিত। বিএনপির প্রয়োজনেই জামাতকে বাদ দেয়া উচিত বলেও মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অবশ্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, এখনো ঐক্য চূড়ান্ত না হলেও আলাপ-আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, এসব নিয়ে আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে। এগুলো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা আশা করছি এই মাসের মধ্যেই একটা সিদ্ধান্তে আসার জন্য। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে যেসব রাজনীতিবিদ জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের প্রত্যাশা তারা সবাই এক জায়গায় আসবে। রাজনীতিবিদরা যদি তা করতে না পারে তাহলে এটা তাদের ব্যর্থতা। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জাতির যে প্রত্যাশা, তারা তা পূরণ করবে সেটি আমার বিশ্বাস। তবে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছে অবাস্তব আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে কয়েকটি ছোট দল। এর ফলে এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় সব দল নাও আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ

























