জহির সিকদারঃ কেউ বালু ফেলছেন, আর কেউ সুরকি। কেউ-বা কোদাল হাতে কাজ করছেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া-আগরতলা সড়ক ঘেঁষে কেন্দুয়াই গ্রামসহ আখাউড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় এখন এমন দৃশ্য দেখা যাবে।।  সম্প্রতি কেন্দুয়া গ্রামে ঢুকতেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। কওমি ফোরামের ব্যানারে সড়ক সংস্কারে ব্যস্ত তারা। আখাউড়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে  সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজন ত্রাণ সহায়তার জন্য বিদ্যালয়য়ের  সামনে এসে জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায়, কেউ-বা মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লোকজনের উপস্থিতি ছিল।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত বন্যাকবলিত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে  জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ, জিয়া ফাউন্ডেশন  ও চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের স্থান হতে আর্ধকিলোমিটার দূরে অবস্থিত  আখাউড়া স্থলবন্দরে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সেখানেও বন্যার্তদের মাঝে সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিক সহায়তার আয়োজন করেন  বিএনপির সাবেক নেতা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা খন্দকার।ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন ঈশ্বরগঞ্জ আইনজীবী সমিতি। গাজীর বাজার এলাকায় ত্রাণ লোড করা  একাধিক পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বন্যা মোকাবেলায় আখাউড়া উপজেলার বন্যার ক্ষত কাটাতে এভাবেই সবাই হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের  চেয়ে ব্যক্তিগত ও  বেসরকারি উদ্যোগে বন্যা মোকাবেলায় নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে চলেছেন জেলার লোকজনসহ অন্যান্য অঞ্চলের লোকজন। লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকাতে গ্রামবাসীও নিজেদের উদ্যোগে বন্যা মোকাবেলায় কাজ করছে। বিষয়টিতে বেশ আশান্বিত আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি এ ধরনের কার্যক্রমে বন্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে বেশ আশ্বান্তিত ও কিছুটা প্রশান্তি বোধ করছেন।

তিনি জানান, ‘বন্যা আক্রান্তদের বিষয়ে সব খবর আমরা পাবো এমনটি ভাবা উচিত নয়। তাছাড়া আমরা সব কাজ করতে পারব, এমনটাও নয়। বন্যা মোকাবেলায় সবাই মিলে যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা খুবই প্রশংসা করার মতো’। তিনি  আরো বলেন  বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সুবর্ণা আক্তারের স্বামীর হাতে সোমবার ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। আখাউড়ার বন্যা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে বন্যা-পরবর্তী ক্ষত কাটিয়ে উঠতে কিছুটা হলেও  হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা বেশ বিপাকে আছেন। এ অবস্থার মধ্যে  বিত্তবান লোকজনসহ বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক সংগঠনের সাহায্যের হাত প্রসারিত করায়  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামালা দেওয়া সম্ভব। অনেকে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তার বাইরে নগদ অর্থ দেওয়া শুরু করেছে।বন্যায়  বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের খুঁজে  খুঁজে বের করেএসব নগদ  সহায়তা দিচ্ছে তারা। সরকারি সহায়তার দিকে না তাকিয়ে সড়ক মেরামতসহ অন্যান্য কাজেও তাদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে সোমবার বিকেলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ কাজে অংশ নেওয়া মো. আল-মামুন জানান, বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তারা পাঁচ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। ডা. হিমেল খান জানান, ড্যাব ও জিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০০ পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আখাউড়াতে তারা একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প করবেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন আব্দু ও সদস্যসচিব খোরশেদ আলম ভূঁইয়া জানান, সোমবার তাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। বিএনপি নেতা আবুল মুনসুর মিশন জানান, দলীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। সড়ক সংস্কারকাজে থাকা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আখাউড়ার আলেম-ওলামারা শুরু থেকে কাজ করছেন। লোকজনকে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণের মতো কাজ করেছেন তারা। এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে তারা রাস্তা মেরামতের কাজ করছেন। ত্রাণ বিতরণে পিছিয়ে নেই পুলিশও। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেলের নেতৃত্বে তিন দিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন মোতাবেক এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আখাউড়া উপজেলার আইড়ল এলাকায় নিজেদের উদ্যোগে ও বিনাশ্রমে  ভেঙ্গে যাওয়া একটি বাঁশের সাঁকো তৈরিতে ব্যস্ত  স্থানীয় লোকজন। বন্যার শুরু থেকেই কাজ করছে সেনাবাহিনী। পানিবন্দিদের উদ্ধার থেকে শুরু করে সরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তারা তদারকি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরাও নানাভাবে বন্যা মোকাবেলায় এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে