শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর সংবাদদাতা।। যশোরে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করে রোষানলে পড়েছেন শাহীন‌ রেজা নামে নাক কান গলার এক চিকিৎসক। অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসক অপারেশনের সময় খাদ্য ও প্রসাবের নাড়ী একত্রে সেলাই করায় মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন ওই প্রসূতি। রোববার বিকেলে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকে হামলা চালালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে দায় এড়াতে রোগী স্বজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই চিকিৎসক। পুলিশ বলেছে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোগীর স্বজনরা জানান, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চানপুর গ্রামের মঈনুল ইসলামের স্ত্রী ডলি বেগমকে গত ১৯ মে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে তারা দেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভর্তি করেন। ভর্তির কিছু সময় পরেই নাক কান‌ গলার চিকিৎসক শাহীন রেজা সিজারিয়ান অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশনের সময় ওই চিকিৎসক ভুলে খাদ্য ও প্রসাবের নাড়ী একত্রে সেলাই করে দেন। এতে রোগীর জরায়ুর রাস্তা দিয়ে মলমূত্র বের হতে থাকে। একপর্যায়ে ওই রোগীকে যশোর ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। রোববার রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হয়ে পড়লে স্বজনরা ক্লিনিকে ঢুকে হট্রগোল শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেছেন রোগীর স্বজনরা। রোগীর স্বজন সাকিবুজ্জামান জানান, দেড় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডলি বেগম। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। একজন নাক কান‌ গলার চিকিৎসক কিভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করতে পারেন। তার অপচিকিৎসার কারণে আজ আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। অন্য কেউ এ অবস্থায় পড়তে পারেন। এজন্য ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহীন রেজা বলেন, একজন এমবিবিএস চিকিৎসক সব কিছু করতে পারে। এ পর্যন্ত আমি অর্ধ-শতাধিক সিজার করেছি। তার মধ্যে দুটিতে অভিযোগ এসেছে। তাছাড়া সকলেই সুস্থ আছেন। ভুক্তোভোগী ডলির বিষয়ে তিনি বলেন, আমার করা সিজারের রোগীকে কেন তারা অন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলো ? রোগীর স্বজনরা আমাকে জানাতে পারতো তা না করে তারা এ হাসপাতাল, সে হাসপাতাল নিয়ে ঘুরছেন। এতে আমার কি করার থাকে? এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হসপিটালে গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, এমন একটি ঘটনা জেনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে