শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর সংবাদদাতা।। দেশে এখন অবাধ নির্বাচন করার সুযোগ নেই দাবি করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, আমরা এখন নতুন ধরনের বাকশালে আছি। রাজনৈতিক দলগুলোর কোনও স্বাধীনতা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এমপি পর্যন্ত শেখ হাসিনা যেটা সিলেকশন করে দেন, যাদের তালিকা দেন- সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিন সেটাই ঘোষণা করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথিদের বক্তৃতা কলে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবীর রিজভী আরও বলেন, বিএনপি’র কর্মীরা বাঁশ বাগানে ধান ক্ষেতে কলাবাগানে লুকিয়ে থাকলে এ সরকার টের পেয়ে তাদের আটক করতে পারে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর রাতের আঁধারে পালিয়ে গেলেও ওবায়দুল কাদের কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুই জানতে পারেন না। তিনি বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একটা ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন করেছেন। যার ভোট লাগেনা নির্বাচন লাগে না। তার দরকার পড়ে বেনজীরের মতো লোকজনের, প্রয়োজন হয় আজিজদের মতো লোকজনের। তার জনগণের দরকার পড়ে না। যেনতেন উপকারে একটা ডামি নির্বাচন করে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়েছেন।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মত মানুষের সমালোচনা করেন। অথচ তার বাবার লেখা বইয়ে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মন্ত্রিসভার সদস্য একে খন্দকারসহ অন্যান্য এমপিদের লেখা বইয়েও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) তো আর মুক্তিযুদ্ধে যাননি। আপনার কথায় কী এসে যায়। নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লোক হিসেবে প্রচারের জন্য আপনি মুক্তিযুদ্ধকে মার্কেটিং করছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুক্ত লেখনীর কারণে অনেক সাংবাদিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আর সাইবার অ্যাক্টে বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বাবু অমলেন্দু দাস অপু, জাহানারা সিদ্দিকী, সাবেরুল হক সাবু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।



























