সিনান আহমেদ শুভ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।।
রাজবাড়ীতে খামার ও পারিবারিক ভাবে কোরবানি উপলক্ষে ৬৫ হাজার গবাদি পশু প্রস্তত। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক ভাবে নিজস্ব খামারে উৎপাদন খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছ গবাদি পশু রাজবাড়ীতে খামার ও পারিবারিক ভাবে এবছর কোরবানি উপলক্ষে ৬৫ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।গো-খাদ্যের অত্যাধিক দাম বৃদ্ধির কারনে প্রাকৃতিক ভাবে নিজস্ব খামারেই উৎপাদিত খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে গবাদি পশু গুলো।প্রাকৃতিক উপায়ে গো খাদ্যের খাবারে খরচ কমিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিস থেকে দেওয়া হচ্ছে পরামর্শ।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর চর দক্ষিন বাড়ি গ্রামে থ্রী এস এ্যগ্রো নামে ১৬ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বড় একটি গরুর ফার্ম। এ খামারে প্রায় দুইশোটি গবাদি পশু রয়েছে।এর মধ্যে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ৬০ টি বড় আকৃতির ষাঢ় গরু প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করে বড় করা হয়েছে। এবার ঈদে এ ফার্মের প্রতিটি গরুর ওজন ১৪ মণ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত রয়েছে। বাজারে গো-খাদ্যের বাজার দর কয়েক গুন বেড়ে যাওয়ায় গরু উৎপাদনকারী খামারীরা বার বার লোকসানে পরছেন। যার কারনে অধিকাংশ খামারিরা এখন নিজেদের উৎপাদিত খাদ্য খাওয়াচ্ছেন।এতে একদিকে গবাদি পশুগুলো মোটাতাজা করন করতে খরচ কম হচ্ছে অন্যদিকে কৃত্তিম খাবারের উপর নির্ভরশীলতা কমে গবাদি পশু গুলো প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠছে। নিজেদের জমিতে উৎপাদিত কাচা ঘাস,ভুট্টা,গম,ধানের খড়,ধানের কুড়া,গমের ভূষি,সরিষা ও তিলের খৈল সহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে গরু গুলো মোটাতাজাকরন করা হচ্ছে।এতে গরু গুলো কোন ধরনের রোগ বালাই ছাড়া বেড়ে উঠছে। কোন ধরনের মেটাতাজা করন ঔষধ, ইনজেকশন ও বাজার থেকে কেনা খাবার খাওয়ানো হচ্ছে না। দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি না করার অনুরোধ জানান খামারিরা।এতে তারা ভালো লাভবান হবেন বলে জানান।রাজবাড়ী জেলায় ৬ হাজার ৫ শ খামারী ও পারিবারিক ভাবে পশু পালনে এবছর ৬৫ হাজার গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

খামারে নিযুক্ত কর্মচারী থ্রীএস এ্যাগ্রো ফার্মের কর্মচারীরা বলেন,বাজারে কেনা গরুর খাবারের দাম কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় তারা তাদের নিজস্ব জমিতে কাঁচা ঘাস,ধানের খর,ভুট্টা সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদন করে গরু মোটাতাজা করছেন।কোন ধরনের মেটাতাজাকরন ট্যাবলেট বা ঔষধ গরুকে খাওয়ানো হয় না।দেওয়া হয় না কোন ধরনের ইনজেকশন।তবে দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি না করা হলে তারা ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। থ্রী এস এ্যাগ্রো ফার্মের ম্যনেজার কামাল বিশ্ব বলেন,সুস্থ্য ও সুন্দর গরু তৈরী করতে নিজেদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ঘাস,ভুট্টা,গম,ধানের খর,বিচালী, কুড়া সহ বিভিন্ন খাবার উৎপাদন করে গরু গুলো লালন পালন করছেন।এতে গরু লালন পালনে খরচ কমছে অর্ধেকেরও কম।তবে বিদেশী গরু আমদানি করা না হলে তারা ভালো লাভবান হতে পারবেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রানী সম্পদ কমকর্তা ডা.প্রকাশ রঞ্জন দাস বলেন,রাজবাড়ীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে খামারী ও পারিবারিক ভাবে ৬৫ হাজার গবাদি পশু প্রস্তত করা হয়েছে।জেলায় প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে গবাদি পশু গুলো ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট সহ বড় বড় জেলা গুলোতে সরবরাহ করা যাবে।খামারে পশু লালন পালনে খরচ কমাতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।এতে খামারীদের খাদ্য উৎপাদনে খরচ কমেছে অনেক।এতে লাভবান হবে খামারীরা। বিভিন্ন সভায় তারা বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন- যাতে খামারীরা লাভবান হয়।দেশে উৎপাদিত প্রচুর গবাদি পশু রয়েছে যা দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে