সিনান আহমেদ শুভ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।। দৌলতদিয়ার ৪ ও ৬ নং ফেরি ঘাটে ভাঙ্গন বালুর বস্তা ফেলে দায়সারাভাবে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা,স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিবছর ভাঙ্গনের ফলে নদীতে বিলীন হচ্ছে শতশত বাড়ি ঘর,ব্যবসা প্রাতিষ্ঠান সহ বহু স্থাপনা।

বেশ কিছুদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা জোয়ারের পানিতে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারনে গত সপ্তাহে দৌলতদিয়ার ৪ ও ৬ নং ফেরি ঘাটে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে অস্থায়ী ভাবে জরুরী বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা ফেলে ভাঙ্গ ঠেকানোর কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী ভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতি বছরের মত এবছরও শতশত বাড়ি ঘর,ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট,ফেরি ও লঞ্চ ঘাট সহ বহু স্থাপনা বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গত কিছুদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা জোয়ারের পানিতে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।আর এতে দৌলতদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৪ ও ৬ নং ফেরি ঘাটে প্রবল ভাঙ্গ দেখা দিয়েছে।ইতমধ্যে ভাঙ্গনের কবলে পরেছে ৬ নং ফেরি ঘাট ৭ নং ফেরি ঘাট এলাকার ছত্তার মেম্বারের পাড়া ৩০০ মিটার এলাকা।৪ নং ফেরি ঘাট মসজিদের নিচে আরো ৫০ মিটার এলাকা ভাঙ্গন ঠেকাতে জরুরী ভাবে জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলমান থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে অতি সামান্য।কোন রকমে ভাঙ্গন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হলেও বর্ষা মৌসুমে ভয়ঙ্কর ভাঙ্গনের আশঙ্কা স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।শুকনো মৌসুমে কাজ না করে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা ফেলা হলেও তা ভাঙ্গন ঠেকানোর কোন কাজেই আসছেনা।এতে প্রতি বছরই শতশত বাড়ি ঘর,ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট,ফেরি ও লঞ্চ ঘাট সহ বহু স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।গত ৬ বছরে ৭ টি ফেরি ঘাট ও লঞ্চ ঘাট নদীতে কয়েকবার বিলীন হলেও এখনো ১,২, ৪ ও ৬ নং ফেরি ঘাট গুলো স্থাপন করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ।

স্থায়ী ভাবে প্রতিরক্ষা কাজ না করা হলে প্রতি বছরের মত এ বছরও কয়েকশো জনবসতি,ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ,রাস্তা ঘাট ফেরি ও লঞ্চ ঘাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীনের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠি।গত চার বছরেও দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ জমি অধিগ্রহন থেকে শুরু করে বিআইডব্লিউটিসি,পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রনালয়ের সাথে প্রকল্পের চুড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় শুরু করতে পারেনি আধুনিকায়ন কাজ।আর এ কারনে ৬ শ ৫২ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যায় বেড়ে ২ হাজার ৪ শত কোটি টাকায় গীয়ে পৌছেছে।প্রকল্পের কাজ শুরু না করার কারনে অস্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা কোন কাজেই আসছেনা।প্রতিবছর জরুরী এ কাজেই সরকারের গচ্ছা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

স্থানীয় নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষ
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট সংলগ্ন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন,বর্ষা মৌসুম যখন শুরু হয় তখন নদী ভাঙ্গন স্থানে বালুর বস্তা ফেলা হয়। শুকনা মৌসুমে ফেলা হলে এরকম ভাঙ্গন হতো না। বার বার ভাঙ্গনের কারনে এখন আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই। স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করা হলে ফেরি ঘাটের আশে পাশেই তারা নিজস্ব জায়গায় বসবাস করতে পারবে বলে জানান। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জৌতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা অঞ্চল দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মানদী ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে বিআইডব্লিউটিএর সাথে কথা বলে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্প জমি অধিগ্রহন কাজ ধীর গতি ও প্রকল্প ব্যায়ের অর্থ স্থগীত হওয়ায় জেলা প্রাশাসনকে অর্থ ছাড় দেওয়া হয় নাই। এ কারনে এ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কাজের ধীরগতির কারনে ব্যায় বেড়ে ৬৫২ কোটি টাকার প্রকল্প বর্তমানে ২ হাজার ৪ শ কোটি টাকায় পৌছেছে।এ অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।অনুমোদন পেলে নদী শাষনের কাজ শুরু করা হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ২০২১ সালে পানি সম্পদ ও নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের আন্তঃমন্ত্রনালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পে ঘাট এলাকায় ভাঙ্গন হলে তা বিআইডব্লিউটিএ পদক্ষেপ নিবে।আর ঘাটের উজান ও ভাটি এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে