তুহিন হোসেন, পাবনা সংবাদদাতা।। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমে দিশেহারা গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে বারবারই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লোকজন গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন অতিরিক্ত বিলের কাগজ। টাকা পরিশোধ করেও মিলছে না মুক্তি। কারাভোগ করাসহ নানা ধরণের ভোগান্তি পোহাচ্ছে গ্রাহকেরা। আবার নতুন সংযোগ নিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। তাছাড়া বিদ্যুতের বিভিন্ন রেইটের কারসাজিতে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। এ ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও ভুল স্বীকার করেন বিদ্যুৎ সমিতিটির শীর্ষ কর্মকর্তা। একদিকে তীব্র গরম। তার মধ্যেই বিল বাকি দেখিয়ে কেটে নেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন। নবজাতক শিশুকে নিয়ে বারান্দায় বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন মা।

পাবনার ঈশ্বরদীর শেখেরদাইড় এলাকার আব্দুল গাফফার। ২০১৫ সালের ২৮ হাজার টাকার বিল বাকী রেখে মারা যান ২০২১ সালে। ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে এসে তার এক ছেলে শফিকুল ইসলামের বিলের কাগজে যুক্ত হয় বাবার বাকী রাখা ২৮ হাজার টাকা। একই মাসে আরেক ছেলে মহিদুল ইসলামকেও বাবার বিল পরিশোধ করার জন্য বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে বাবার ২৮ হাজার টাকা যোগ করা হয়। শুধু তাই নয় আরও ভুতুড়ে বিল যুক্ত করে মোট ৯১ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারার কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয় সংযোগ। একই ধরণের ভোগান্তিতে ওই এলাকার আরো অনেক গ্রাহক। নওদাপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক শাহিন হোসেন জানান, আমার সাথেও ঘটেছে একই ঘটনা।তিনি জানান,বকেয়া বিলের কারণে আমার নামে মামলা হলে আমি উক্ত ১৩৮৮৮ টাকা পরিশোধ করলেও চার মাস পর পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এভাবে আমাকে হয়রানি করা হয়। পল্লী বিদ্যুৎ ১ এর আরেক গ্রাহক বলেন, আমার যে বিল আসতো ৫০০ টাকা এখন আসতেছে ১৫০০ টাকা। দাশুড়িয়া নতুন মোড়ের বাসিন্দা রানা বলেন, আমার বাবার বিদ্যুৎ বকেয়া বিলের কারনে আমাকে সংযোগ দেওয়া হচ্ছেনা এতে ভোগান্তিতে আছি। আমার বাবাতো নিয়মিত বিলের সে টাকা গুলো পরিশোধ করছে। কেন আমাকে সংযোগ দেয়া হচ্ছেনা ?

অপর দিকে সরাইকান্দি গ্রামের কতিপয় বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, আমাদের মাত্র কয়েকশত টাকা বিল বকেয়া থাকার কারণে আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে সংযোগ নিতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। অথচ আমাদের পাশর্^বর্তী রশিদ গ্রুপের রশিদ পেপার মিলের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। পেপার মিলের বিরুদ্ধে তো কোন মামলা হয়নি, হয়নি টাকা আদায়ের পদক্ষেপ। কতিপয় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণকারী ব্যক্তি বলেন, পল্লী বিদ্যৎ এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিস চলে দালালদের হাতের ইশারায়। দালাল ধরা ছাড়া মিলেনা নতুন সংযোগ। এমনকি পুরাতন সংযোগে কোনো সমস্যায় পড়লেও হতে হয় দালালদের স¦রনাপন্ন। দালালদের সাথে জড়িত অফিসের বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ০১ এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে সংবাদ কর্মীরা গেলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি সমিতির শীর্ষ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন। উল্লেখ্য, গত ১ বছর আগে এই অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমানের হাতেনাতে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে