
রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর সংবাদদাতা।। ওইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে/ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’ সেই ডালিম গাছের তলেই চিরনিদ্রায় শায়িত পল্লীকবি জসীম উদ্দীন। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বাংলার মাটি ও মানুষের সুখ-দুঃখের কবির ৪৮’তম মৃত্যু বার্ষিকী।
গ্রাম বাংলার মাটি মানুষের এই কবি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭৬ সালের এই দিনে। তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশনসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। দিনটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় শহরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে তার কবরে জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশন, আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর কবির বাড়ির আঙ্গিনায় জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াছিন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল আহসান তালুকদার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ ইমদাদ হুসাইন, প্রবীন শিক্ষাবীদ অধ্যাপক এম এ সামাদ, প্রবীন শিক্ষাবীদ প্রফেসর মোঃ শাহজাহান, ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোঃ হাসানুজ্জামান। ১৯০৩’সালের ১’লা জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন পল্লীকবি জসীম উদ্দীন। কবির পিতার নাম আনছারউদ্দীন, মাতার নাম আমেনা খাতুন।
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন বাল্য বয়স থেকেই কাব্য চর্চা শুরু করেন। কবির ১৪ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় তৎকালীন কল্লোল পত্রিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। এরপর তার ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কবি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি, ১৯৭৬ সালে ২১শে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকঁশী কাথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাশিঁ, রাখালি, বালুচর প্রভৃতি।



























