রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর সংবাদদাতা।।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে. আজাদ বলেছেন, আমরা নারীকে যদি আমাদের মায়ের সাথে তুলনা, আমাদের বোনের সাথে তুলনা করি, আমাদের কন্যার সাথে তুলনা করি তাহলেই আমাদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা বোধ আসবে। প্রতিটা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধই নারী দিবসের সার্থকতা। শুক্রবার সকালে শহরের কবি জসীম উদ্দিন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আরো বলেন, ফরিদপুরে নিবন্ধিত ১৩০ টি নারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে। তারা সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ অনেক সামাজিক কর্মকান্ড করে থাকেন।তাদের কাজকে আরো তরান্বিত করতে সংগঠনগুলোর মাঝে সরকারি ও আমার নিজস্ব ফান্ড থেকে ক্ষুদ্র ঋন দেওয়া হবে। আগামী বছর নারী দিবসে ১০ জন নারীকে সামাজিক ভাল কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ফরিদপুরে দুটি যৌনপল্লী আছে। সেখানে নারীদের জোর করে ব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, এসব পল্লীতে যেন নতুন করে আর কোন আমার মা, বোন ,কন্যাকে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করাতে না হয়, সে ব্যাবপারে সকলকে অনুরোধ করিছি। সেই সাথে এখন যারা সেখানের বাসিন্দা আছেন তারা যদি চায় তাদের আমার শহর তলীর পশরা গ্রামের বিনামূল্যে গার্মেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করে চাকরি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ফরিদপুরে আর যেন কোন মেয়ে বাল্য বিবাহের শিকার না হয়। এজন্য আমি একটি ফান্ড দিবো।

নারীদের এখন অনলাইন ফ্লাটফর্মে কাজ করার অনেক সুযোগ হয়েছে। ফরিদপুরে অনলাইনের অনেক উদ্যেক্তারা আছেন। তারা আমার ব্যবসার পন্য চাইলে বাকিতে নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তিনি বলেন নারী উদ্যেক্তাদের জন্যও আমি একটি ফান্ড প্রদান করবো। তিনি বলেন, নারী ব্যসায়দের আরো গতিশীল করতে সময়মত তাদের ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তকে অনুরোধ করবো। তিনি বলেন, আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। এখন আমার অনেক কাজ। আমি একটা একটা করে কাজ করবো। একসাথে কাজ করে এই ফরিদপুরকে একটি সুখি সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ঝর্ণা হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াসিন কবির, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন, ব্লাস্ট সমন্বয়কারী এ্যাড. শিপ্রা গোস্বামী, রাসিন নির্বাহী পরিচালক আসমা আক্তার মুক্তা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুসরাত তানিয়াসহ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহর ঘুরে কবি জসীম উদ্দিন হলে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিভিন্ন এনজিও, অনলাইন নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন স্তরের নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে