রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যতদিন পর্যন্ত ভালোভাবে বিদেশে কর্মী পাঠাতে অভ্যস্ত না হবে এবং যদি নৈতিকতার সাথে কর্মী না পাঠায়, ততদিন পর্যন্ত মাইগ্রেশন সেক্টর ঠিক হবেনা বলে মনে করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। তিনি বলেন, দক্ষ কর্মীদের বিদেশ পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যদি চায় তাহলে তারা মন্ত্রণালয়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকায় বোয়েসেল কার্যালয় ‘নিরাপদ অভিবাসন এবং জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসী কর্মীর অংশগ্রহণ’ বিষয়ক সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব বলেন, “বায়রার অনেক সদস্য আছেন, যখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তখন তারা বলেন তিনি তো শুধু ভিসা প্রসেস করেছেন। আপনার নামে একজন লোক বিদেশ যাচ্ছে আর আপনি বলছেন শুধু প্রসেস করছেন। আপনাকে কি সরকার এই দায়িত্ব দিয়েছে? প্রোসেসিং বলে কোন কথা নাই। আপনি আরেক জনের দেয়া ভিসায় লোক পাঠাচ্ছেন, কিন্তু আপনার দায়িত্ব হচ্ছে এই ভিসায় সে কাজ পাবে কিনা এই জিনিসগুলা দেখতে হবে। ড. মুনিরুছ সালেহীন জানান, রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যারা কাজ করে ইনভিসিবল মিডিলম্যান তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য একটা আইন তৈরী হয়েছে। আসা করছি আগামী এক দুই মাসের মধ্যে এটির রুল জারি হবে। সিনিয়র সচিব বলেন, সরকারের যে স্কিল ডেভলপমেন্ট কর্মীসূচি তা বিশ্বের সেরা কর্মসূচি। যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে তুলনা করি তাহলে আমরা দেখতে পারবো। আমাদের এই মন্ত্রলয়ের আন্ডারে ১১০ টা টিটিসিতে ৫৫ টি ক্যাটাগরিতে বিনা টাকায় ট্রেনিং করার ব্যবস্থা আছে। মহিলাদের জন্য ২ মাসের হাউজ কিপিং ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করেছি। কিন্তু কেন যেন এই ২ মাসের ট্রেনিংটা কেউ করতে চায় না। যেখানে তারা ট্রেনিং করলে ২ মাসে মাসে ১০ হাজার টাকা পাবে।

শ্রম অভিবাসন বিশ্লেষক ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নিরাপদ এবং নৈতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে কর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টি সকলকে নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অভিবাসী কর্মীরা দারিদ্র বিমোচনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। কারণ আমাদের অভিবাসী খাতের কর্মীদের যে অর্থটা আসছে সেটা সরাসরি আমাদের রিজার্ভে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন আমাদের কৃষিতে যে বিপ্লব ঘটেছে যদি আমরা আমাদের অভিবাসী খাতে এরকম বিপ্লপ ঘটাতে পারি তাহলে আমাদের এবছর যে ২৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স উপার্জন হয়েছে তা আগামী বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি করতে পারবো।

বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে দেশে এবং বিদেশে কর্মী ও ডায়াসপোরাদের বিভিন্ন ভাবে তাদের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। রিইন্ট্রিগ্রেশন প্রোগ্রামে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের যারা কূটনৈতিক দায়িত্বে আছেন, তাদেরকে অভিবাসন বান্ধব হওয়া উচিত। আমাদের সেসব দেশে কর্মী যাচ্ছে সেসব দেশে অভিবাসন বান্ধব ক‍‍র্মক‍‍র্তা পাঠাতে হবে, তাহলেই শ্রম অভিবাসী খাতটা সমৃদ্ধি লাভ করবে। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন, এই মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শিউলি ফাতিহা, আইওএম এর যুগ্নসচিব নাসরিন জাহান, আইএলও এর প্রজেক্ট ম্যানেজার রানুমা সালাম খান, রামরুর প্রজেক্ট ম্যানেজার ইনজামুল হকসহ মন্ত্রণালয় এবং বোয়েসেলের কর্মকর্তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে