রাজনৈতিক-সামাজিক সংঘাত ও মনন-চিন্তার অধোগতিতে দুঃখভারাক্রান্ত নাগরিক এখন প্রতীক্ষায় এক নতুন ভোরের। তারা কাল গোণে নতুন সূর্যের, আঁধার শেষে যে আলোকচ্ছটায় ঘুচাবে সব কালো।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গানে দেশমাতৃকার বন্দনায় অন্ধকার ঘুচানোর প্রত্যয় নিলেন সংগীত সংগঠন সুরতীর্থের শিল্পীরা। একক ও সম্মেলক গানে কবিগুরুর জন্মদিনে তাকে প্রণতিও জানালেন তারা।

রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘এখনো গেল না আঁধার’ শিরোনামে সুরতীর্থের এই আয়োজনটি  পরিচালনা করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিতা হক। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে অস্থিরতা ও দেশের মানুষের চিন্তা চেতনার অধোগতি আমাদের সীমাহীন দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। আমাদের চারিদিকের অন্ধকার ভেদ করে কবে প্রভাত সূর্যের দেখা মিলবে সেই প্রতীক্ষা আমাদের। বাংলাদেশ বাঙালির দেশ এই দীক্ষায় আমরা নিজেদের আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে চাই,” বলেন তিনি।

সুরতীর্থর পরিচালক মিতা হক জানান,  প্রায় তিন দশক ধরে সংগীত চর্চার মাধ্যমে ‘সুন্দর মানুষ’ গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মানুষের উন্নতি বলতে সমাজের সার্বিক মঙ্গলময়তাকেই বোঝায়। মানুষ তার মননশীলতা আর সূক্ষ্ম-সুন্দর বোধের দ্বারা পরিচালিত হলে, তবেই সেই সংস্কৃতির পথে, শিক্ষা ও জ্ঞানের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠার চেষ্টা  করতে থাকে। সেই বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকে মানুষে মানুষে মিলন-ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, সুরে, ছন্দে, কাব্যে ও চর্চায়। সেমন্তী মঞ্জরীর কণ্ঠে রবিঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান ‘সার্থক জনম আমার’ এর মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সুরতীর্থর শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী’, ‘মোরা সত্যের পরে মন’।

অরুণা চক্রবর্তী শোনান ‘আঁখিজল মুছাইলে জননী’, শায়লা ইমাম কান্তা শোনান ‘ও আমার দেশের মাটি’, ফারাহ হাসান মৌটুসী শোনান ‘তোর আপনজন ছাড়বে তোরে’। আরমিন মুসা শোনান ‘আপনি অবশ হলি’, শিবানী ধর শোনান ‘এবার তোর মরা গাঙে’, শুক্লা পাল সেতু শোনান ‘তোমারি তরে মা’ গানগুলো। সম্মেলক কণ্ঠে সুরতীর্থ পরিবেশন করে ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি’, ‘হবে  জয়, হবে জয়’, ‘নাই নাই ভয়’, ‘শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান’, ‘ এখন আর দেরি নয়’, ‘আনন্দধ্বনি জাগাও প্রাণে’,‘ফিরে চল মাটির টানে’। অনুষ্ঠানে ধারা বর্ণনা করেন জয়ন্ত রায়।

সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে