ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় অংশ নেয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। শান্তির প্রতীক পায়রার মাধ্যমে মানবতায় ছোঁয়ানো হয় শান্তির প্রলেপ। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাতি, বক, মাছ, পুতুল ও বাইসাইকেলের বড় কাঠামোর আগে চোখে পড়েছে এ দুটি কাঠামো। প্রান্তিক কুমোরদের লোকজ মোটিফ মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে কাঠামোগুলো।আরো চোখে পড়েছে রাজা-রানি, বাঘ, ট্যাপা পুতুল, বেড়াল, লক্ষ্মীপেঁচা, মাছসহ আরো অনেক প্রতিকৃতি। এবার রঙের ক্ষেত্রে হলুদ, কমলা ও লালকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।শোভাযাত্রার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ছিল পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া প্রহরায় চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয় মঙ্গল শোভাযাত্রাটি।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে নতুন একটি বার্তা নিয়ে হাজির হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।
১৯৮০’র দশকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরূদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একইসঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রবর্তন হয়। ঐ বছরই ঢাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা।
১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে নাম লাভ করে। তবে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরো কয়েক বছরের পুরানো।
১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল – পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যযন্ত্রসহ আরো অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।
২০১৬ সালে ৩০শে নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইম্স নিউজ

























