আজ ভোর ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অরুণকান্তি কে গো যোগী ভিখারি’ গানে শিল্পী মর্তুজা কবির মুরাদ তার বাঁশিতে তুলেছেন আহীর ভৈরব রাগ। ১৫ মিনিট ধরে চলা বাঁশির সুরের মুর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে রমনার চারপাশে। এর পরেই শুরু হয় প্রথম সম্মেলক গান ‘ঐ পোহাইল তিমির রাত্রি’। খায়রুল আনাম শাকিল পরিবেশন করেন একক গান ‘কল্যানী শুভ প্রভাত, প্রথম আলোর চরন ধ্বনি’।
ছায়ানট এবার বৈশাখ বরণ করছে বিশ্বায়নের বাস্তবতায় বাঙালির আত্মপরিচয়ের তালাশ নেবার আহ্বানে। এ আয়োজন শেষ হয় সকাল প্রায় সাড়ে ৮টায়। এতে একে একে পরিবেশন করা হয়েছে ১৬টি একক গান, ১২টি সম্মেলক গান, দুটি আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করে। এটি ছায়ানটের বর্ষবরণের ৫১তম আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেন, সংস্কৃতি যত ছড়াবে মানুষের মন তত আনন্দিত হবে। সংস্কৃতির সঙ্গে সৌন্দর্যের একটি যোগসূত্র রয়েছে সেটাকে মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করা গেলে মানুষ হত্যা, জঙ্গিবাদ, অন্যায় ও প্রতারণা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
বাংলা পঞ্জিকায় নতুন বছরের প্রথম সূর্য কিরণের সঙ্গে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। একক গান, সম্মেলক গান, আবৃত্তি ও পাঠ দিয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। এ আয়োজনে শামিল হতে ভোরেই রমনার বটমূলে নানা শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তারা।
১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ছায়ানট। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারা চর্চা, ধারণ ও লালনে ছায়ানটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষবরণে ছায়ানট বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে এ দিনটিকে করে তোলে উৎসবমুখর।
ঢাকার রমনা উদ্যানের অশ্বত্থ গাছের নিচে ১৩৭৪ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাত, ১৯৬৭ সালের মধ্য এপ্রিলে হয়েছিল প্রথম ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তারপর থেকে প্রতিবছর ছায়ানটের এ আয়োজন জাতীয় পর্যায়ে বর্ষবরণের প্রধান অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক । বিডি টাইম্স নিউজ


























রমনার বটমূলে সুর আর সঙ্গীতের মাধ্যমে বঙ্গাব্দ ১৪২৫ কে স্বাগত জানালো ছায়ানট। সব অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে নতুনের কেতন উড়িয়ে আগমন ঘটেছে নতুন বছরের। পুরোনো দিনের ব্যর্থতা, গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছরের মত এবারো রাজধানীর রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে ছায়ানট আয়োজন করে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।