
দেশের ই-কমার্স খাতে একের একের পর ধস নামে ২০২১ সালে, বন্ধ হয়ে যায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, আলেশামার্ট, কিউকম’সহ অর্ধশত প্রতিষ্ঠান। আর তাদের কাছেই আটকা পড়ে গ্রাহকের কয়েক হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে কেবল পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকা পড়ে যায় গ্রাহকের প্রায় সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকা। তবে, কেলেঙ্কারির ১৪’মাসেও স্থিরতা ফেরেনি দেশের ইকমার্স খাতে। হাজার হাজার কোটি টাকা দেনার মধ্যে কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে ২০০ কোটি ছাড় করতে পেরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে ১৫১ কোটি টাকা দিয়েছে কিউকম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার পেমেন্টে কিউকমের আটকা ছিলো ৩৯৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে এখনো প্রায় আটকা আছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া এখনো বিভিন্ন গেটওয়েতে অন্য সব ইকমার্স মিলে মোট আটকা আছে গ্রাহকের প্রায় ৩৩০কোটি টাকা। চলমান অস্থিরতায় গতি ফেরে কিউকমের অর্থ ছাড়ের মধ্য দিয়ে। কিউকম গেলো কয়েক মাসে ১৮ হাজার ১১৮ জন গ্রাহককে ফেরত দিয়েছে ১৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর আলেশামার্ট, দালাল প্লাস, ধামাকাসহ ১২ প্রতিষ্ঠান মিলে ফেরত দিয়েছে আরো ৫০ কোটি টাকা। সর্বমোট ২২ হাজার ২৪০ জন গ্রাহককে ফেরত দেয়া হয়েছে ২০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া, পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান এসএসএল, ফস্টার পেমেন্ট, সূর্যপেসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আটকা আছে অন্তত আরো ৩৩০ কোটি টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ই-কমার্স সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, গ্রাহকদের গেটওয়েতে থাকা অর্থ ফেরত দিতে গেটওয়ে কোম্পানি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। গেটওয়েতে সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকা থাকা কিউকমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রাহক তালিকা যাচাই, নতুন ডাটাবেজ তৈরিসহ নানা ইস্যুতে কিউকমের ২টি ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়া হচ্ছে। এদিকে, গেটওয়েতে আটকা অর্থ না পেয়ে হাজার খানেক অভিযোগ জমা পড়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সংস্থাটির মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান জানিয়েছেন, এসএসএল কমার্স, ফস্টার পেমেন্ট, সূর্যপে সহ বেশকিছু গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অভিযোগ পাচ্ছেন তারা।
ইকমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লিস্ট দেয়ার পরেও গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি আছে কিনা প্রয়োজনে সেটি খতিয়ে দেখা তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে ভোক্তার মহাপরিচালক। এর বাহিরে যাইরে যারা এখনো অর্থ ফেরত শুরু করেনি সেগুলো হচ্ছে, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, আনন্দের বাজার, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, টোয়েন্টিফোর টিকেটি, ই-অরেঞ্জ, উইকুম, আকাশ নীল, আমার বাজার, আস্থার প্রতীক, বাড়ির দোকান ডট কম, নিরাপদ ও ইনফিনিটি মার্কেটিং লিমিটেড, প্রিয় শপ, আলাদিনের প্রদীপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।














