কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে তিন মাস বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যান। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন বীর এই যোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তার সঙ্গে সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকতের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। তার ওপর দায়িত্ব পড়ে গুপ্তচর হিসেবে বিভিন্ন তথ্য জোগাড়ের। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়া বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি মৃত্যুবরণ করেছেন। ২১ মার্চ বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বার্ধক্য জনিত নানা জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

কাঁকন বিবি প্রায় বছর খানেক ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। কয়েকদফা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও গত ১৯ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে আবারো ভর্তি হন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স তাঁর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের পথে যাত্রা শুরু করে বলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একে এম মাহবুবুল হক জানান। এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কাঁকন বিবির মেয়ে সখিনা বিবি জানান, মরদেহ দোয়ারাবাজারে পৌঁছানোর পর সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর বিকাল ৪টায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। কাঁকন বিবির মেয়ে আফসোস করে বলেন, ‘এই অসুখ অবস্থায় আমার মা ঢাকা গেল। গ্যাজেট পেল না। সরকারের কাছে গ্যাজেটের দাবি জানায় আমরা।’

১৯১৫ সালে মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীর একটি গারো পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে তিনি বসবাস শুরু করেন।

নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে