১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের বিভীষিকাময় কালরাতের হত্যাযজ্ঞ স্মরণে সারা দেশে আলো নিভিয়ে স্মরণ করা হল ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতের কথা। শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে আলো নিভিয়ে এ ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ। একাত্তরে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে সারা দেশে ৯টা বাজতেই এক মিনিটের জন্য নামে অন্ধকার।
প্রতীকী ব্ল্যাকআউট এর আগে পরে মোম জ্বালিয়ে সেই অন্ধকার রাতের ভয়াবহতার কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। একাত্তরের এই দিনে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে দিনটি পালন হলেও, স্বাধীনতার ৫১ বছরেও মেলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর মুক্তিকামী জনতার মধ্যে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে থাকে। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নেয় ভয়ংকর নিধনযজ্ঞের।
বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। অপারেশন সার্চলাইট নামের সেই অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, রমনা কালিমন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় গণহত্যা। ওই রাতে শুধু ঢাকায় অন্তত ৭ হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়।
সে রাতের প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন অরুণ চন্দ্র রায়। থাকতেন জগন্নাথ হলে। পাকিস্তানি বাহিনীর সে হত্যাযজ্ঞের কথা মনে হলে, আজও শিউরে ওঠেন তিনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন চালাতেন মধুসূদন দে। তার ছেলে অরুণ কুমার দে জানালেন, সে রাতে ক্যান্টিন ভাঙচুর থেকে শুরু করে বাবা-মাসহ পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা।
পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করলেও সে রাতে শহিদ হয়েছিলেন শতাধিক পুলিশ সদস্য।তবে স্বাধীনতার ৫১ বছরেও মেলেনি নির্মম সেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ সংসদে প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করে সরকার।
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ



























