রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ছেলে স্বাধীন আহমেদ(১৯) এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে আরও দুই’জন। আজ ২৩’শে নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৩’মিনিটে জাহাঙ্গীর গেইট থেকে ইউটার্ন নিয়ে মহাখালী রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মিতসুবিসির আউটল্যান্ডার মডেলের (ঢাকা মেট্রো ঘ -১৩-৩৯৭৯)’নম্বরের গাড়িটি দেয়ালের সাথে বেপরোয়া ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় দুই’জন এবং আহত হয় গাড়িটির প্রকৃত চালক’সহ অন্যান্যরা।

দূর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন, ফাহমিদ আহম্মেদ রাইয়ান(১৯), পিতা মৃত- ইলিয়াস আহম্মেদ(ব্যবসায়ী) ও মোঃ ওমর আয়মান(২০), পিতা- কর্নেল (অবঃ) ওমর ফারুক। আয়মান ও রাইয়ানের বাসা নিকুঞ্জের সাত নম্বর সড়কে।

জানা গেছে, মিতুসুবিসির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়িটি নিয়ে নিকুঞ্জ থেকে ফিরছিলেন, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাখালী ফ্লাইওভারের একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে গাড়ির সামনের সিটে থাকা দুই তরুণ মারা যায়। দুর্ঘটনায় এছাড়া আহতদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ছেলে স্বাধীন আহমেদ রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়। তিনিও চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়িচালক মোহাম্মদ মহসিনও। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন।  গাড়ী’র চালক মহসিন পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা নিকুঞ্জ থেকে ডিওএইচএস ফিরছিলেন। ঘটনার সময়ে গাড়িতে ছিল দুই’বান্ধবী (রাইসা এবং দিয়া)’সহ মোট সাতজন।

রাজধানীর কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. আনিস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে গাড়ির প্রকৃত চালক মোহাম্মাদ মহসিনকে পেছনে বসিয়ে রেখে রায়হান গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন তারা। এক পর্যায় গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে অদূরে ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আয়মান ও রাইয়ান আগেই মারা গেছে বেলে জানান। পরে চালক মহসিন’সহ আহতদের সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দুইজন ও আহত চালককেই পেয়েছেন। বাকি যাত্রীরা কে কোথায় গেছেন তা বলতে পারেননি চালক। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ঘটনার সময়ে গাড়িটি চালানো রাইয়ানের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কিনা কিংবা তারা বিশেষ কোনো অবস্থায় ছিলেন কিনা তা পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে