তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় খালাস পেয়েছেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ জানান প্রবীর শিকদার।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার দিন সকালেই আদালতে হাজির হন প্রবীর সিকদার। ঢাকার সাইবার আদালতের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের রায়ে খালাস পান তিনি।
এজলাশ থেকে বেরিয়ে প্রবীর শিকদার জানান, তিনি ন্যায় বিচার পেয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যহার হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। এ আইন স্বাধীন মত প্রকাশে অবশ্যই বাধা। এ আইনে রদ করা উচিৎ।আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলাটি যে ভিত্তিহীন ছিল আদালতে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যার্থ হয়েছেন তারা।ফেইসবুকে লেখালেখির কারণে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে ২০১৫ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন শহীদ পরিবারের সন্তান প্রবীর সিকদার। কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি বলে তার অভিযোগ।
পরে ওই বছর ১০ অগাস্ট এক ফেইসবুক পোস্টে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘তার কিছু হলে’ তখনকার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং তার অনুসারী-সমর্থকরা ‘দায়ী থাকবেন’।এরপর ১৬ অগাস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে প্রবীরকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। রাতেই তাকে নেয়া হয় ফরিদপুরে।
ফরিদপুরের এপিপি স্বপন পাল তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এই মামলা করেন। সেখানে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ‘সুনাম ক্ষুণ্ণের’ অভিযোগ আনা হয়।২০১৫ সালে তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। ওই স্ট্যাটাসে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ে সময় লাগলো ৬ বছর।



























