১৯৯৯ সালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হরকাতুল জিহাদ বা হুজি-বি গঠন করে আফগানফেরত যোদ্ধারা। তাদের ভারী অস্ত্রের প্রশিক্ষণ ও সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে জঙ্গি সংগঠনটি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে হুজি-বি’র জঙ্গিরা। কোটালিপাড়ায় জনসভার মাঠে ৭৬ কেজি বোমা পুতে শেখ হাসিনাকে হত্যারও চেষ্টা চালিয়েছিল তারা। এছাড়াও আরো তিনবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা। এরমধ্যে দু’হাজার চারের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।
শেখ হাসিনাকে হত্যা চেস্টার বাইরে রমনা বটমূল, উদীচীর সমাবেশ, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ওপরে হামলাসহ সতোরোটি বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালায় হুজি-বি। এসব হামলায় নিহত হন ১৪৫ জন। আহত হন প্রায় এক হাজার মানুষ।২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি নামে হুজি-বিকে প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করেছিল একটি মহল। কিন্তু দেশি-বিদেশি নানা শক্তির আপত্তির মুখে সেটা আর সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে হুজি-বির প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। চার বছর আগে মুফতি হান্নানসহ একাধিক জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তারপর থেকেই তৎপরতা নেই জঙ্গি সংগঠনটির।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মুফতি হান্নানসহ অন্যান্যদের ফাঁসির রায় কার্যকর এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে আমরা সক্ষম হয়েছি। হুজির কোন ধরনের অফলাইন বা অনলাইন তৎপরতা এই সময়ে আমাদের চোখে পড়ছেনা। সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি এই সংগঠনটিকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
হুজি-বি’র পর্ব শেষ হয়ে গেলেও এখনও সক্রিয় রয়েছে আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবি। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, কোন জঙ্গি সংগঠনেরই এখন হামলা করার সক্ষমতা নেই।
তথ্যঃ ডিবিসি














