বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শুধু বায়োগ্যাসই নয়, উৎপাদন করতে চায় জৈব সারও। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাতুয়াইলে ল্যান্ড ফিল্ড তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে আধুনিক, পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন দোকান, খামার ও বাসাবাড়ি থেকে আসে প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য। এসব বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ড ফিল্ডে জমা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতি পাঁচ বছর পর পর পঞ্চাশ একর জায়গার প্রয়োজন। এ অবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিয়েছে দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ। বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকলপনা নিয়েছেন তারা।

দোকানপাট, অফিস-আদালত ও বাসা বাড়ি থেকে প্রতিদিনই ফেলা হয় বর্জ্য। ছোট ছোট ভ্যানে তা সংগ্রহ করে জমা হচ্ছে এসটিসিতি। শুধু উত্তর সিটিতেই প্রতিদিন ২৬শ’ থেকে তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য মেলে। প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে আমিন বাজারের বিশাল ল্যান্ড ফিল্ডে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন থেকে আর মাথা ব্যাথা নয়। এই আবর্জনাকেই এখন সম্পদে পরিণত করতে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। দেশের প্রথম বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়েছে ডিএনসিসি। বিদেশী একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তিও হয়ে গেছে।

ডিএসসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন বলেন, বর্জ্য আমাদের সম্পদ। বর্জ্য কাউকে বিনামূল্যেও দিতে চাই না। যে বর্জ্যগুলো আসে তার ১৫’ভাগ আমাদের ল্যান্ড ফিল্ডে যায়। বাসা থেকে সরাসরি যাতে সেখানে যেতে পারে সেই ব্যবস্থাই আমরা করার চেষ্টা করছি। গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শুধু বায়ো গ্যাসই নয় এ প্রকল্প থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার। তেল উৎপাদনেরও পরিকল্পনা আছে দক্ষিণ সিটির। এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন আরও বলেন, জৈব সার, তার পরবর্তীতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, এর সাথে সাথে বায়োগ্যাস এবং ওয়েস্ট এনার্জির যে পরিকল্পনা তার এর মধ্যে আছে। এই মাস্টার প্ল্যানের বিশাল অংশ জাইকার সাথে সংশ্লিষ্ট।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৬শ’ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। সেক্ষেত্রে আশপাশ থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। ৪২.৫’মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হবে প্রায় তিন হাজার থেকে ৩৩শ’ মেট্রিক টন বর্জ্য। উন্নত বিশ্বে বর্জ্য মানেই গোল্ড। সে পথে হাঁটতেই আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্য থেকে তেল, গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও আছে উত্তর সিটির। সেলিম রেজা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে টেকনোলজিগুলো সংযুক্ত করা হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জ্ঞান অর্জন করছি। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে যেখানে সেখানে বর্জ্য পড়ে থাকবে না। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য সম্মত নগরীতে পরিণত হবে উত্তর সিটি করপোরেশন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ল্যান্ড ফিল্ড হবে আবর্জনা শূন্য। সে ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের আশপাশ থেকেও বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। ডিএসসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরও বলেন, আধুনিকায়নের জন্য হয়তো আমাদের বিভিন্নভাবে কাজ করতে হবে। স্থানান্তর কেন্দ্রগুলো থেকে কাজ শুরু করতে হবে এবং বাসাবাড়ি থেকে যে সংগ্রহটা, সেটা আরও সুশৃঙ্খলভাবে আনতে হবে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে