২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। যার আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার এটি তৃতীয় বাজেট। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আর মোট অনুন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) অতিমারি মোকাবেলায় জরুরি চাহিদা মেটাতে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এই বাজেট উত্থাপন করেন। এ প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বাজেটে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিপুল বরাদ্দ রেখেছিলাম। এ ছাড়া যে কোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রেখেছিলাম। তবে প্রথম প্রাদুর্ভাবের পর বছর ঘুরে এলেও বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রকোপ এখনও বিদ্যমান রয়েছে। কাজেই আমি বিগত বাজেটের ন্যায় এবারও অঙ্গীকার করছি এ মহামারি মোকাবিলায় যা করণীয় তার সবকিছুই সরকার করে যাবে। সে কারণে আগামী অর্থবছরেও কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য পুনরায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

করোনার সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও দুর্যোগের আশংকা শেষ হচ্ছে না। বরং বিশেষজ্ঞরা করোনার তৃতীয় ঢেওয়ের আশংকা করছেন। আর এই ঢেও আগের দুটি ঢেওয়ের চেয়ে ভয়া হতে পারে বলে তাদের ধারণা। এমন বাস্তবতা থেকেই সম্ভবত করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় মূল্যস্ফীতি হবে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাজেট প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

জাতীয় বাজেট (২০২১-২০২২)-
বাজেটের আকার: ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা
ঘাটতি: ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা জিডিপি’র ৬.২ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি: ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা
প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা: ৭ দশমিক ২ শতাংশ
মূল্যস্ফীতি: ৫ দশমিক ৩ শতাংশ
করমুক্ত আয়ের সীমা: বার্ষিক ৩ লাখ টাকা
করোনা মোকাবিলা: ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল
ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস আসবে: ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং
অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা
অভ্যন্তরীণ উৎস: ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সংগৃহীত হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং
সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত হতে আসবে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৭১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে