রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে বীরদর্পে বর্জ্যের ট্রাক চালাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শুভ। যদিও এটি চালানোর কথা তার বাবা আবুল হোসেনের। কিন্তু তা না করে অন্য কাজ করেন তিনি। শুভ জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই সাত মাস ধরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হেল্পার কিংবা মেকানিকদের অনেকে এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটির গাড়ি চালক। তাদের কারোর নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অথচ রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন বেপরোয়া। এমনকি নিয়োগ পাওয়া চালকের বদলে গাড়ি চালাচ্ছেন অন্য কেউ। বছরের পর বছর এমন অনিয়ম চললেও করপোরেশনের অজুহাত গাড়ির তুলনায় তাদের চালক কম।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন চালকের সংখ্যা তিনশোর বেশি। যাদের কেউ পরিচ্ছন্নতা কর্মী, কেউ হেলপার বা মেকানিক। যাদের লাইসেন্স আছে তাদের অনেকে হালকা যানের লাইসেন্স দিয়ে চালাচ্ছেন ভারী যানবাহন। এইসব চালকদের অনেকে জানান, মেকানিকের কাজ করতে করতে গাড়ি চালাতে শিখে গেছি, তাই এখন গাড়ি চালাই। তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা হয়নি। আবার কেউ বলছেন, ওস্তাদ না আসায় এখন আপাতত‌‌‌‍ তিনি চালাচ্ছেন। এখানেই অনিয়ম শেষ নয়। নিয়োগপ্রাপ্ত চালকের বদলে গাড়ি চালান অন্য কেউ। এই যেমন হারুনের গাড়ি চালাচ্ছেন মাসুদ। এসব অবৈধ চালকদের জন্য সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু সাধারণের মত সিটি করপোরেশনের চালকের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে না পুলিশ।

পুলিশ সার্জেন্ট আব্দুর জলিল বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো দেখলে আমরা তাদের থামাই এবং তাদের উপরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি অবগত করি। তবে এবিষয়ে ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী সহজ স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, ৫১৩ গাড়ির বিপরীতে চালকের সংখ্যা কম। আরো চালক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। তবে কেউ দুর্ঘটনা ঘটালে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণের প্রধান এই নির্বাহী কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশন হলেও তাদের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলে মত গণপরিবহন বিশেষজ্ঞদের।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে