
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। কবরীর ছেলে শাকের চিশতী শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জোহরের পর বনানী কবরস্থানে জানাজা এবং গার্ড অব অনার দেওয়ার পরপরই আম্মাকে সমাহিত করা হয়েছে”।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩’দিনের মাথায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবরী। শাকের আরও জানান, কবরীর মরদেহ সকালে হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় আনা হয়েছে। দাফন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত মরদেহ সেখানেই রাখা হবে।
কবরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন। ১৯৫০’সালের ১৯’শে জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার পারিবারিক নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল ও মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩’সালে মাত্র ১৩’বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।
১৯৬৪’সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। তার অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যে রয়েছে জলছবি, বাহানা, সাত ভাই চম্পা, আবির্ভাব, বাঁশরি, যে আগুনে পুড়ি, দীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, ক খ গ ঘ ঙ, বিনিময়, সুজন সখী, আগন্তুক, নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, সারেং বৌ, দেবদাস, হীরামন, চোরাবালি, পারুলের সংসার, আরাধনা, দুই জীবন ও তিতাস একটি নদীর নাম।
পাচ দশকের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী। ফারুক ও বুলবুল আহমেদের সঙ্গেও তার জুটি জনপ্রিয়তা পায়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন কবরী।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














