বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ইন্ডিয়া ফল্ট ও মিয়ানমার ফল্টের দুটি প্লেট পরস্পরের প্রতি ধাবিত হয়ে তীব্র শক্তির সঞ্চার করছে। প্রতি একশ বছরে দুটি প্লেট দেড় মিটার সরে আসছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে বড়ধরনের ভূমিকম্প। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের শহরাঞ্চল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভুমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মহাপরিচালক। আর সকলের সমন্বিত প্রস্তুতির পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

প্রায় দুই কোটি লোকের এই নগরীতে মানুষের যে হারে বাড়ছে তাতে জনসংখ্যার দিক থেকে খুব শিগগিরি তৃতীয় স্থান দখল করবে ঢাকা। প্রতি বর্গকিলোমিটারের ৪৫ হাজার মানুষের ঢাকায় প্রতিবছর অন্তত ৪-৫ লাখ লোক নতুন করে বসতি গড়ে। এই বিশাল জনসংখ্যার মাথা গোজার ঠাঁই সামাল দিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে আবাসন। ভবনের সংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি-সিডিএমপি’র জরিপে বলা হয়, সাড়ে ৭ বা ৮ মাত্রার ভুমিকম্পে রাজধানীর ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে।বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৩ প্লেটের সংযোগ স্থলে অবস্থিত। এরমধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের ভেতরেই ভারত ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে দুটি প্লেট পরস্পরের প্রতি ধাবিত হচ্ছে। প্লেট দুটি ১শ বছরে দেড় মিটার পরস্পরের দিকে ধাবিত হয়ে শক্তি সঞ্চার করছে।ঢা. বি. ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘যে পরিমাণ শক্তি সঞ্চার হয়েছে আজ হোক কাল হোক বের হতেই হবে।’প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করতে সারাদেশে ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ পেয়েছে ৩৬ হাজার। যারা নিজ এলাকায় মানুষকে সচেতন করার কাজ করছেন।রাজধানী শহরকে ৯ ভাগে ভাগ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ২ হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ, ঢাকা ও আশপাশের ১২ টি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ, মোবাইল হাসপাতাল, গৃহহীনদের আশ্রয়ে ২০ হাজার তাবু, ২৫০ কোটি টাকার উদ্ধার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে কেনা হবে আরো ৫০০ কোটি টাকার সরঞ্জাম। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ভূমিকম্প উৎপন্নস্থল থেকে গতিটা এখানে আসতে আসতে ঝুঁকি কিছুটা কমে আসবে।’
বুয়েট গবেষকদের ভূ-কম্পন মানচিত্র জরিপ বলছে, বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা ভুমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। আর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যএক জরিপে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্লেটে ভুমিকম্প হলে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ৯ মাত্রায় হতে পারে। এতে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
২০১৮ সাল থেকে শুরু করে আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত বিশ্বে বড় ধরণের ভূমিকম্প বাড়বে বলে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন মার্কিন দুই বিজ্ঞানী। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের রজার বিলহ্যাম এবং মোনটানা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেবেকা বেনডিক এ ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকার বাৎসরিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত গবেষণা-পত্র উপস্থাপন করেছেন তারা।
অনলাইন নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ














