আইন অমান্য করে গ্রাম-গঞ্জে গড়ে উঠছে একের পর এক ইট ভাটা। এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়লেও নির্বিকার কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবেশ দূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনাও। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ‘যেখানে সতেরো-আঠারো মণ ধান পাই সেখানে মাত্র ৭ মণ ধান পাচ্ছি। ডিসি ও কৃষি বরাবর দরখাস্ত করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
২০১৬ সালে এডিবি’র জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ইটভাটার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এসব ইটের ভাটায় ব্যবহার হয় প্রায় ৩শো কোটি ঘনফুট মাটি। আর ইটভাটাগুলো থেকে কার্বন নি:সরণের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ২০ বছরে নষ্ট হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর বনভূমি। শুধু তাই নয়, পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি ৬ জনে ১ জন মারা গেলেও বাংলাদেশে প্রতি ৪ জনে ১ জন মারা যায়। পরিসংখ্যান বলে এ দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ২৮ ভাগই ঘটে পরিবেশ দূষণ জনিত কারণে। ইটভাটার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে সরকার আইন করলেও বিভিন্ন দোহাই দিয়ে তা মানতে চান না ভাটা মালিকরা।

বাংলাদেশের ইট প্রস্তুতকারী খাতের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘মোট ইটভাটার সংখ্যা ৬৮৯৩ টি, বার্ষিক ইট উৎপাদন ২২.৭ বিলিয়ন, ইটের বার্ষিক চাহিদা ৫.২৮%, উৎপাদনের আর্থিক মূল্য ১৭০.৩৭ বিলিয়ন (ইট প্রতি ৭.১০ টাকা), জিডিপিতে অবদান প্রায় ১%, কয়লার পরিমাণ ৪.৭৮ মিলিয়ন টন, কার্বন নি:সরণর ১১.৫৯ মিলিয়ন টন, মাটির পরিমাণ ২৮৪০ মিলিয়ন সিএফটি, মোট কর্মসংস্থান প্রায় ১ মিলিয়ন জনগোষ্ঠী, নির্মাণ শিল্পের প্রবৃদ্ধির হার ৫.৬%, ইট খাতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার ২-৩%।’
এতকিছুর পরও নিয়মভঙ্গ করে গড়ে ওঠা ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।
অনলাইন ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ














