মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত জনতার প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হলে, তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে দেশটির সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এদিকে, বিক্ষোভ দমনে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে জান্তা সরকার। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইয়াঙ্গুন-নেপিদোসহ বড় শহরগুলোতে অব্যাহত রয়েছে সেনা অভিযান।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, সোমবার মিয়ানমার ইস্যুতে সামরিক জান্তার উপপ্রধান সোয়ে উইনকে ফোন দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিনা শানার। এ সময় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সাথে প্রতিহিংসাপূর্ণ আচরণ করলে তার পরিনতি ভয়াবহ হবে বলে জান্তা সরকারের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ক্রিস্টিনা শানার উপপ্রধানকে আরো জানান, মিয়ানমার চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। বিক্ষোভকারীরা যেন কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার না হন। এছাড়াও মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। এই ফোনালাপ সম্পর্কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানায়, জাতিসংঘের দূতের সঙ্গে প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে তাদের। এছাড়াও মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারে শুনানিতে অংশ নেবেন সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার। সোমবার তাদের আইনজীবী খিন মাউং জ এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে, বিক্ষোভ রুখতে মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ। সেনাদের ক্ষমতা দখলের পর অনলাইনে ভিন্নমত দমনের চেষ্টায় চতুর্থবারের মতো দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

এছাড়াও বিক্ষোভকারীদের দমনে বেশ কিছু আইনি সংস্কার করেছে সেনারা। এদিকে দমন-পীড়ন সত্ত্বেও এগারতম দিনে গড়িয়েছে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ। তবে ইয়াঙ্গুন. নেপিদোসহ বড় শহরগুলোতে অব্যহত রয়েছে সেনাবাহিনীর ধরপাকড় । এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ২০ বছর কারাদণ্ডের হুশিয়ারী দেয় জান্তা সরকার।

স্থানীয় ‘অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার’ সংস্থাটি বলছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তারসহ অন্যায় তৎপরতার চালানোর জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সামরিক সামরিক অভ্যুত্থানের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত ৪২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চত করেছে তারা। এরইমধ্যে এনএলডি নেত্রী অং সান সু চি’র আটকাদেশ বুধবার পর্যন্ত বাড়িয়েছে সেনা সরকার।

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে