সোহেল রানা ডালিম,চুয়াডাঙ্গা ।। জনপ্রিয় সিরিজ “ক্রাইম প্যাট্রোল” দেখে চুয়াডাঙ্গার সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় দস্যূতার ঘটনায় জড়িত মাস্টার মাইন্ড রাসেলসহ চাঁরজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ ৩ হাজার টাকা ও দুটি মটরসাইকেল, চাপাতি, হেলমেট, পিপি, ল্যাপটপসহ দুটি খেলনা পিস্তল।

আজ (১৫-ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দেহাটি ফকিরপাড়া গ্রামের রফিক উদ্দীনের ছেলে সাফাতুজ্জামান রাসেল (৩০), একই এলাকার জাহাঙ্গীর শাহ’র ছেলে রকি (৩২), মৃত আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর ছেলে হৃদয় (২২), এবং দেহাটি ফকির পাড়ার মফিজুল শাহ’র ছেলে মাহাফুজ আহম্মেদ আকাশ (১৯)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঋণের দায়ে জর্জোরিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবক সাফাতুজ্জামান রাসেল এ ঘটনার মাস্টার মাইন্ড। রাসেল হৃদয়কে সাথে নিয়ে ভারতের জনপ্রিয় সিরিজ “ক্রাইম প্যাট্রোল” দেখে সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় দস্যূতার পরিকল্পনা করেন। পরে রকি ও আকাশকে সাথে নিতে চাইলে আকাশ তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আকাশ রাজি না হলেও তার মুখ বন্ধ রাখার জন্য ভাগের টাকা দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দারাজ ডট.কম থেকে খেলনা পিস্তল ক্রয় করে চক্রটি। পরে পেপার ফ্লাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিজের নাম বদল করে পিস্তল ও গুলি ডেলিভারি নেয় রাসেল। পিস্তল ও গুলি হাতে পাবার পর গত ১৫ নভেম্বর রাসেল তার ভাইয়ের ছেলে রকি ও হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে হেলমেট, পিপি ও হ্যান্ডগ্লাভস পরে সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় ঢুকে দস্যূতা চালাই। পরে ব্যাংক লুটের টাকা একটি ঝোপের মধ্যে রাখে পরিবেশ একটু সান্ত হলে কিছু টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে মাস্টার মাইন্ড রাসেল ঝিনাইদহতে পালিয়ে যায়। বাকী তিনজনকে আটক করার পর গত সোমবার দিবাগত রাতে চৌগাছা থেকে মাস্টার মাইন্ড রাসেলকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই মাস্টার মাইন্ড রাসেল পালিয়ে যায়। একের পর এক তার অবস্থান পরিবর্তন করার কারনে তাকে আটক করতে এক মাস সময় লেগেছে পুলিশের। ঘটনার পরে রাসেল প্রথমে ঝিনাইদহতে পালিয়ে যায়। পরে যশোরে পালিয়ে যায়, যশোর থেকে সে ঢাকাতে পালিয়ে যায়। ঢাকা থেকে সে কালিগঞ্জে চলে আসে। পরে আবার চৌগাছায় চলে যায়। পরে আবার চৌগাছা থেকে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মেহেরপুরে যায়। মেহেরপুর থেকে কুলপালাতে একদিন অবস্থান করার পর আবার চৌগাছা চলে যায়। পরে আবার ঢাকাই যায়। ঢাকার সদর ঘাট থেকে লে র একটি কেবিন ভাড়া করে পটুয়াখালি চলে যায়। পটুয়াখালি যাবার পর বরিশাল হয়ে খুলনায় আসে। খুলনা থেকে আবার যশোর চৌগাছায় আসলে পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দস্যূতা চালিয়ে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় ওই ব্যাংকের ম্যানেরজার আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশসসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একাধিক টিম পুলিশের তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হন।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে