জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা প্রকাশ্যে ওই সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২। তিনি বলেন, সচিব/সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৭৮টি পদের বিপরীতে ৩৬৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মরত রয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশ দিতে সময় ক্রমেই কমে আসছে। ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে। ৪৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে সময় লেগেছে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন, ৪৫তম বিসিএসে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন এবং ৪৪তম বিসিএসে ৩ বছর ৭ মাস। ৫০তম বিসিএসের ফল এক বছরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদোন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন ক্যাডারের দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় যথাসময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয় এবং পদোন্নতি ও পদায়নের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও পদস্খলনের পরিণতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ধরনের আরও ৮টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রতিটি প্রশিক্ষণ কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
