শেখ আবদুল হাকিমকে মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক স্বত্বাধিকারী ঘোষণা করা কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। কাজী আনোয়ার হোসেনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
এছাড়াও এখতিয়ার বর্হিভূত হওয়ায় কপিরাইট অফিসের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন আদালত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সচিব, কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস এবং কপিরাইট বোর্ডকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নজিরবিহীন ঘটনায় গত ১৪ জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস গোস্ট রাইটার শেখ আবদুল হাকিমকে মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের বইয়ের স্বত্ব দেন। এর বিরুদ্ধে ২৭ জুলাই হাইকোর্টে আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। আজ শুনানি শেষে হাইকোর্ট এক মাসের জন্য সেই রায় স্থগিত করে রুল জারি করেন।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গুপ্তচরবৃত্তি-থ্রিলারভিত্তিক মাসুদ রানা সিরিজটির বই লিখেছেন গোস্ট রাইটার (বেনামী লেখক) শেখ আবদুল হাকিম। জনপ্রিয় এই সিরিজের বেশিরভাগ পাঠক জানেন, প্রথম কয়েকটি বই ছাড়া পরের বেশির ভাগ বইয়েরই লেখক শেখ আবদুল হাকিমসহ আরো কয়েকজন। তবে এসব বই কাজী আনেয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ সম্পাদনা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে লেখা হয়েছে।
কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম সেবা প্রকাশনীর বিরুদ্ধে কপিরাইট অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের কিছু বইয়ের স্বত্ব দাবি করে তিনি আইনি প্রতিকার ও রয়্যালটি চেয়েছিলেন।
তার অভিযোগ আমলে নিয়ে কপিরাইট অফিস দুই পক্ষের যুক্তি-তর্ক ও বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণা করে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, সেবা প্রকাশনীর বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ এবং ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শেখ আব্দুল হাকিমের স্বত্ব দাবি করা মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি ও কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের কপিরাইট তাকে দেয়ার পাশাপাশি বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে সেবা প্রকাশনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরে সেবা প্রকাশনী রায়ের বিরুদ্ধে রিট করে।
আইনি নোটিসে হামিদুল মিসবাহ জানিয়েছিলেন, কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত বিষয়ে অভিযোগ দায়ের, অভিযোগ আমলে গ্রহণ, শুনানি ও বিচার করার এখতিয়ার একমাত্র বিজ্ঞ জেলা জজ বা সেশনস জজ-এর রয়েছে। অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো বিচার্য বিষয় আমলে গ্রহণ করা বা বিচার করার ক্ষমতা বা অধিক্ষেত্র কপিরাইট রেজিস্ট্রার বা কপিরাইট অফিসকে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কপিরাইট আইনের ৮১ ও ৯২ ধারায় সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী শেখ আব্দুল হাকিম সেবা প্রকাশনীর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘন এবং প্রতিকার ও রয়্যালটি দাবি করে যে দরখাস্ত করেছেন, তা কেবল জেলা জজ বা দায়রা আদালতের বিচার্য বিষয়, কপিরাইট অফিসের এখতিয়ারভুক্ত নয়। কপিরাইট অফিস শেখ আব্দুল হাকিমের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারপূর্বক রায় ঘোষণা করেছে। যা তার এখতিয়ার ও ক্ষমতা বহির্ভূত এবং সুস্পষ্টভাবে সীমা লঙ্ঘন।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














