হাবিব ব্যাংকের যোগসাজশে বাংলাদেশে শেয়ার বেচাকেনায় একশ ৬০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে পাকিস্তানের নয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশকিছু দিন হয়ে গেলেও চিঠির উত্তর দেয়নি এনবিআর।
পাকিস্তানের সরকারি-বেসরকারি অংশিদারত্বের প্রতিষ্ঠান হাবিব ব্যাংক লিমিটেড। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বেশকিছু শহরে রয়েছে এ ব্যাংকের শাখা। সম্প্রতি ব্যাংকটির ঢাকা অফিস পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ধরা পরে কর ফাঁকির ঘটনা।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের নয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান হাবিব ব্যাংকের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে। এসময় তারা প্রায় একশ ১১ কোটি টাকা কর ফাঁকি দেন। যার বিলম্ব ফি হয় প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগযোগ করা হয় হাবিব ব্যাংক ঢাকা অফিসে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়েও ব্যাংকটির কর্মকর্তারা দেখা করেননি।
ফাঁকি দেয়া কর পরিশোধে ব্যাংকটিকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু টাকা না দিয়ে ব্রোকারেজ হাউজের ওপর দায় চাপায় হাবিব ব্যাংক। পাশাপাশি তিন আইনজীবীর মতামত নিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করে লেনদেনে কর ফাঁকি হয়নি। আবার এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরেরও মতামত নেয়ার অভিমত দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তিন বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়, আলোচ্য লেনদেনে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে কিনা? এছাড়া ফাঁকি দেয়া করে জরিমানা হবে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। পরে যোগযোগ করা হয় বোর্ডের এক সদস্য ও একজন প্রথম সচিবের সঙ্গে। তারাও জানান, বিষয়টি নজরে নেই। তবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান বোর্ডের এক প্রথম সচিব। এদিকে বিশ্লেষকেরা জানান, করফাঁকি প্রমাণ হলে দায় বর্তাবে হাবিব ব্যাংকের ঘাড়ে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














