ঠিক এক বছর আগে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট বাতিল করা হয়েছিল ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা। অঞ্চলটিকে দুইভাগে ভাগ করে লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর নামে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার বিজেপি।

বিবিসি জানায়, কঠোর নিরাপত্তা আরোপ ও ইন্টারনেট কড়াকড়ির মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে কাশ্মীরি জনগণকে। এরমধ্যে ফের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়ার বর্ষপূর্তিতে কারফিউ জারিতে ক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা। সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন লকডাউন করে কাশ্মীরের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ যেমন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই ছিল বন্ধ।

কাশ্মীরিদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল যে পর্যটন, তাও বন্ধ। করোনার কারণে পুরো বিশ্ব লকডাউনে পড়লেও কাশ্মীরের মানুষ গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে এই পরিস্থিতিতে আছে। মার্চ মাসে করোনা নিয়ন্ত্রণের লকডাউন শুরুর ঠিক আগেই পুলওয়ামায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেন কলকাতার একটি কলেজের এক কাশ্মীরি ছাত্র। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এ শিক্ষার্থী বলেন, গত একবছরে খুব বেশি হলে ৭ দিন ঠিক মতো স্কুল কলেজে ক্লাস হয়েছে, তারপরেই তো আবার করোনা মোকাবিলার লকডাউন শুরু হয়ে গেল। এখনও থ্রি জি, ফোর জি ইন্টারনেট বন্ধ – শুধু টু জি চলছে। ছাত্রছাত্রীরা তাই অনলাইন ক্লাসও ঠিক মতো করতে পারছে না। তিনি বলেন, সবার চোখেমুখেই একটা উদ্বেগের ছাপ.. কাল কী হবে, কেউ জানে না.. যে নতুন কাশ্মীরের কথা সরকার বলেছিল, তার তো দেখা পাওয়াই যাচ্ছে না, উল্টে এই একটা বছরের মধ্যে কাশ্মীরকে বহু বছর পিছিয়ে দেওয়া হল।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চলতি বছরের অর্ধেকেই অঞ্চলটিতে ২২৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩২ জন বেসামরিক লোক। গত এক দশকে সব চেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালে। সে বছর কাশ্মীরে নিহত হন ২৮৩ জন।

ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন করোনার লকডাউনের জন্য এখন বন্ধ, কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ এক বছর ধরেই। ওমর আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতাকে মুক্তি দেওয়া হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সহ বহু নেতা-নেত্রী এখনও গৃহবন্দী।

কাশ্মীর টাইমস পত্রিকার সম্পাদিকা অনুরাধা ভাসিনে বলেনন, যেভাবে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের ভাবনারই বিরোধী। তার ভাষ্য, যেভাবে গত একবছর ধরে নানা নীতি নেওয়া হয়েছে, তাতে কোনও ধরণের রাজনৈতিক কর্মকান্ডেরই আর জায়গা নেই। যেটুকু রাজনৈতিক কথাবার্তা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের মনের কথা নয়।

কাশ্মীরে গত একবছরে কী কী পরিবর্তন হয়েছে, কীভাবে বদলিয়েছে সেখানকার মানুষের জীবন, সে প্রসঙ্গে বিবিসি’র সংবাদদাতা রিয়াজ মাসরুর বলেন, পরিবর্তন তো হয় তখনই, যখন জীবন চলতে থাকে, কাজকর্ম হতে থাকে। কিন্তু কাশ্মীরে তো জীবন হঠাৎ করেই গত বছরের ৫ আগস্ট সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে, যেন সময় থেমে গেছে সেদিনই। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেই থাকত একবছরে, তাহলে তো ৪ আর ৫ আগস্ট বিক্ষোভের ভয়ে কারফিউ জারি করতে হত না। মানুষ যে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয় নি, এটা প্রশাসনও বুঝেছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে