হাসপাতালে আরাম-আয়েশেই আছেন বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং জি কে শামীম। নেতাকর্মী-অনুসারীদের সঙ্গে চলছে দেখা-সাক্ষাৎ। তবে তাদের সুস্থতা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে কারা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা শেষে কারাগারে ফেরত পাঠাতে ৬ দফা চিঠি দিয়েছে কারা প্রশাসন। তবে বিএসএমএমইউ পরিচালক বলছেন, অসুস্থ বলেই তাদের চিকিৎসা চলছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডি’ ব্লকের হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাট। তার সঙ্গে দেখা করতে এইচডিইউ ইউনিটে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে আছেন ৩’পুলিশ সদস্য মগ্ন আড্ডায় আর মোবাইল ফোনে ব্যস্ত এক কারারক্ষী।
প্রধান ফটকে দাঁড়ানো আনসার সদস্যের কাছে দলীয় কর্মীর পরিচয় দিলে, দেখা করিয়ে দিতে রাজি হন তিনি। বিনিময়ে খুশি করতে হবে তাকে। আর এ প্রক্রিয়াতেই গত ৭ মাস ধরে সম্রাটের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, এভাবেই আবার নিজের সাম্রাজ্য সংগঠিত করছেন তিনি।
ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরেক বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা জিকে শামীমও চিকিৎসাধীন একই হাসপাতালের প্রিজন ক্যাবিনে। হাতের সমস্যায় প্রায় ৩ মাস ধরে এখানে আছেন তিনি।
এসব নিয়ে জানতে চাইলে, কারা মহাপরিচালক বলছেন, চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ছয় দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা ফেরত না পাঠালে কারা কর্তৃপক্ষের কি করার আছে– সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে শামীমের চিকিৎসক বলছেন, হাতের সমস্যা ঠিক হলেও বুকে ব্যথা অনুভব করায় হৃদরোদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে তাকে। সম্রাটের চিকিৎসক দিচ্ছেন আরও বিস্ময়কর তথ্য। তিনি বলছেন, সম্রাটের হৃৎস্পন্দনের অনিয়মের চিকিৎসা তাদের কাছে নেই তাই করা হয়েছে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের সুপারিশ। অথচ, একই সমস্যায় কারাগার থেকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়েছিল তাকে, আর সেখান থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয় ৮ মাস আগে। এ নিয়ে বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য, সম্রাট ও শামীম দুজনই এখনও অসুস্থ। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার মতো অবস্থায় নেই। তবে তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ওপর সোমবার থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
তবে অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছে, তাদের অবৈধ সম্পদের ভাগ যারা পেয়েছেন, তাদের মদদেই হাসপাতালে থাকতে পারছেন তারা। কারাগার থেকে সম্রাট হাসপাতালে আসেন গত বছরের ২৪ নভেম্বর, আর জি কে শামীম আসেন ৫’ই এপ্রিল।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














