নাজমুল আহসান তুহিন,(ইউরোপ ব্যুরো প্রধান)|| ইতালীতে একজন বিদেশী ছাত্রীকে গন ধর্ষনের দায় দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশীকে গেফতার করেছে ইতালিয়ান পুলিশ।
ইতালীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সুত্রে জানা গেছে, ইতালিতে আমেরিকান একজন পর্যটক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সাগর দেব(২১) ও ফেরদৌস খান(১৯) নামে দুই জন প্রবাসী বাংলাদেশী যুবকে গ্রেফতার করে ইতালীর পুলিশ। আমাদের ইউরোপ ব্যুরো প্রধান নাজমুল আহসান তুহিন জানান, ইতালির গণমাধ্যমে গত ১৬’ই জুন মঙ্গলবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, গত ২১’শে ফেব্রুয়ারীতে আমেরিকার এক ছাত্রী ট্যুরিস্ট হিসেবে ঘুরতে যায় ইতালির দক্ষিণের শহর পালেরমো শহরে। ২৩ বছরের ঐ ছাত্রী যখন পালেরমো শহরের Villa Bonanno এরিয়ার একটি ক্যাথেড্রলে ঢুকে ছবি তুলতে যায় তখন সুযোগ বুঝে ঐ ছাত্রীকে দুই বাংলাদেশী যুবক টেনে ক্যাথেড্রলের বাগানে নিয়ে গনধর্ষণ করে। তার পর সেখান থেকে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ নির্যাতিতা ছাত্রীর ঘটনার দিনের পরিহিত কাপড় ও নির্যাতনকারীদের কাপড় এবং তাদের মুঠোফোন ঘটনার আলামত হিসেবে জব্দ করেছেন।
পুলিশ জানায় ধর্ষণকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতন করে ক্ষান্ত হয়নি তারা ধর্ষণের ভিডিও তাদের ফোনে ধারণ করে রেখেছিল।পুলিশেরপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করে। এ ঘটনার পরে ধর্ষিতা ইতালি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে এবং ইতালির পুলিশ আশে পাশের বিভিন্নজায়গায় লাগানো সিসি ক্যামরা দেখে সাগর দেব (২১) ও ফেরদৌস খান (১৯) নামে দুই বাংলাদেশীকে চিহ্নিত করে। পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই আসামি অন্য কোন অপরাদের সাথে জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের তদন্তকারী দল। কিন্তু তার পরপরই ইতালিতে করোনার লকডাউনে সবকিছু স্থবির হয়ে যাওয়াতে ধর্ষণকান্ডের মামলার অগ্রগতি থেমে যায়।

দীর্ঘদিন পর গত ১৬’ই জুন সেই ধর্ষণ মামলায় এই দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করে ইতালীয় পুলিশ। এভাবে যদি বাংলাদেশীদের দ্বারা ইতালিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে ইতালিতে বাংলাদেশীদেরকে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯’সালে পালেরমোতে, ১৮ সালে রিমিনিতে, ১৭’সালে রোমে এবং ১৪’সালে রোমে ধর্ষণের দায়ে প্রবাসী বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করে ইতালির পুলিশ। বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষন যেন করোনা মহামারীকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতাখুললেই কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে তাকালেই দেখা যায় ধর্ষন কিংবা ধর্ষনের পর হত্যার মত নৃশংস ঘটনা।
বাংলাদেশী সমাজে এটি একটি সামাজিক ব্যাধিত পরিনত হয়েছে। তাইতো আজ এ ব্যাধি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া ,মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশে যেখানেই বাংলাদেশী আছে সেখানেই এ অঘটন ঘটেই চলছে অহরহ। ধর্ষকরা কোন দেশ সমাজ কিংবামান সম্মানের তোয়াক্কা না করে তাদের হীন চরিতার্থ সাধন করেই যাচ্ছে একের পর এক।
নাজমুল আহসান তুহিন, (ইউরোপ ব্যুরো প্রধান)
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














