মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদে ঘরমুখী হয় মানুষ। মহাসড়ক, রেলস্টেশন, নৌঘাটে নামে যাত্রীর ঢল। ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ ছুটে যান গ্রামে, সময় কাটান আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। ঈদগায় জামাত শেষে কোলাকুলির পর্ব।
তবে, এবার বন্ধ যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই রেওয়াজ। করোনা ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এবার ঈদ করতে হবে সবাইকে। স্কুল বন্ধ, বাইরে বের হওয়া নিষেধ। বারান্দার কার্নিসে দাঁড়িয়ে সরু গলিপথ দেখে দিন কাটে রাইফা ইহানের। অথচ ঈদের আগে এমন সময়ে বাবা-মা’র সাথে নানা শপিংমল ঘুরে ব্যস্ত থাকতে হতো তাদের। এবার করোনা মহামারিতে ঘরবন্দি শিশুরা। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বাবা-মাকে বেশি সময় কাছে পেলেও ঈদের দিন আত্মীয় বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া এবার হচ্ছে না।
ঈদের দিন শুরু হয় ঈদগাঁহের জামাত দিয়ে। তবে, এবার হাইকোর্টের কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠের ছবি পাল্টে গেছে। নেই নতুন রঙয়ের আঁচড়, বাহারি সামিয়ানা ঘেরা আয়োজনের ব্যস্ততা। করোনার কারণে এবছর বন্ধ থাকছে ঈদগাঁহের জামাতও।
ঈদ এলেই ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা নতুন ভাবে সাজে। বাহারি রং আর কাপড়ে মুড়ে চকমক করতে থাকে চার দিক। টুকটুক শব্দে ফাঁকা রাস্তায় ছুটে চলা ঘোড়ার গাড়ি আর চলছেনা। সকাল বেলার র্যালি, অলিগলি, মোড়ের মুখে কোলাকুলি, হৈ-হুল্লোড় উৎসবের সব উল্লাসই এবার নির্বাসনে।
ঈদের দিন উন্মুক্ত স্থানে নামাজ বন্ধ হলেও মসজিদের দরজা থাকছে খোলা। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই কেন্দ্রীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জামাত হবে আগের মতই। ঈদ মানে খুশি আর আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়া। হিংসা ভুলে হৃদ্যতার এক সুতোয় সবাইকে বেঁধে রাখার দিন ঈদ। কিন্তু এবার সবার সুরক্ষায় অছ্যুত হয়ে আত্মকেন্দ্রিক দেয়ালে বন্দি থেকে কাটিয়ে দেবার দিন ঈদ।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























