মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় এখন ভিন্ন চিত্র। টানা বন্ধে অবসরে পরিবেশ ও প্রাণীরা হয়ে উঠেছে সজীব। নির্জন ও নিরিবিলি পরিবেশে কানে আসে পশু-পাখির ডাক। জিরাফের বেষ্টনীতে যোগ হয়েছে নতুন ২ অতিথি। উল্টো দিকে আয় হারাচ্ছে সরকার। গত ২০ মার্চ থেকে বন্ধ থাকায় ক্ষতি প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
জিরাফের খাঁচা এখন ভরা। গেল মার্চ ও এপ্রিলে জন্মেছে ২টি শাবক। মা নেউটে শাবক ছায়ার মতো ঘুরছে সবসময়। দর্শনার্থীর ভিড় না থাকায় খাঁচায় আছে বেশ সাচ্ছন্দে। বড়দের সঙ্গে খুনশুটি করে এভাবেই মানিয়ে নিচ্ছে নতুন অতিথি।প্রতি বছরে এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হতো ১২ কোটি টাকা। গাড়ি পার্কিং, প্রাণী জাদুঘর ও ক্যান্টিন থেকে আয় আরো ২ কোটি টাকা। কিন্তু টানা বন্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা আয় হারাচ্ছে সরকার।তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরিবিলি পরিবেশে সজীব হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে চিড়িয়াখানার পশু ও পাখিগুলো। আর লোক সমাগম না থাকায় বাইরে থেকেও আসছে নানা ধরনের পাখি। আর তাদের কলকাকলিতে মুখর হচ্ছে পরিবেশ।ওদিকে ৮ বছর আগে আফ্রিকা থেকে চিড়িয়াখানায় আনা হয় ২ জোড়া জিরাফ এখন তার সংখ্যা ৯টি। নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে দেয়া হচ্ছে খাবার। আর অ্যান্টি ভাইরাস সলিউশন স্প্রে করা হচ্ছে নিয়মিত।
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ চিড়িয়াখানা। নির্জন পায়ে হাঁটা সরু রাস্তা। তাই নেই কোনো দর্শনার্থও। নিরিবিলিতে নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ে ব্যস্ত ময়ূর যুগলরা। আর অলস সময়ে মেতেছে বাঘ। খাঁচার সামনে হঠাৎ মানুষের উপস্থিতি মনে হয় ভালো লাগেনি তাদের।আর বনের রাজার খাঁচায় প্রায় দুই মাস ধরে দেখছে না দর্শনার্থী। তাই নিরিবিলি পরিবেশটাই যেন আপন করে নিয়েছে আফ্রিকান সিংহ। চিড়িয়াখানায় এমন মাংসাশী, সরীসৃপ ও পাখিসহ আছে প্রায় ২৭’শ প্রাণী। এগুলো দেখতে দিনে গড়ে দর্শনার্থী আসতো ১০ থেকে ১২ হাজার।
তথ্যঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট














