লকডাউন নির্দেশ অমান্য করে আজও কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কোথাও কোথাও বাধা দেয়া হলেও তাদের আটকাতে সড়ক-মহাসড়ক ফেরিঘাটে নেই প্রশাসনের কোনো খুব একটা কড়াকড়ি।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্মরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিটিসি) পাঁচ কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরও করোনাভাইরাস রোধে জীবাণুনাশক ছিটানো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি ফেরিঘাটে। আর ঝুঁকির মধ্যেই ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমজীবী মানুষ।

মানিকগঞ্জরে পাটুরিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। শনিবার (২ মে) সকাল থেকে অসংখ্য শ্রমিকসহ ঢাকামুখী মানুষ এই ঘাট দিয়ে ফেরি পার হচ্ছেন। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে নেই। শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। রয়েছে ঢাকামুখী শ্রমিকদের চাপ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দক্ষিণঅঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীরা ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল করে কাঠালবাড়ি ঘাটে এসে ভিড় করছেন। অনেকেই ঝুকি নিয়ে ট্রলার দিয়ে পার হচ্ছেন পদ্মানদী। এসব যাত্রীরা বলছেন, পোশাক কারখানা খুলেছে। চাকরি বাঁচাতে জীবনের ঝুকি নিয়ে ঢাকা যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ভোলা ফেরিঘাটে রয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামগামী গার্মেন্ট শ্রমিকদের ভিড়। তবে সেখানে পুলিশ কোস্টগার্ড উপস্থিত থাকায় কোনো যাত্রী ফেরিতে উঠতে পারছেন না।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কও দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষে ঢল। ছুটছেন ঢাকার সাভার, গাজীপুরের বিভিন্ন কারাখানায়। এই সুযোগে বেশি ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এদিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছেই। এই মুহূর্তে লকডাউন শিথিল করা হলে ভয়ংকর বিপর্যের আশঙ্কা করছেন বিশেজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা কমার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন তুলে নিয়েছেন। বাংলাদেশেও সেই পথে হাটার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল ও লকডাউন তুলে নিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ হাটছে ভিন্ন পথে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হার এখনো উর্দ্ধমুখী। তাই লকডাউন শিথিল করার আগে সরকারকে আরও কৌশল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে