মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির। সরকারী, বে-সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষনা হয়েছে। ভাইরাস মোকাবেলায় সকল ধরণের জনসমাগম নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় খাদ্য, ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দোকান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাতের আধারে মেহেরপুর জেলার প্রাণ কেন্দ্রে জনসমাগম করেই তামাক পাতা ক্রয় করছেন বিএটিবি কতৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একই এরিয়ার মধ্যে তামাক ক্রয় করতে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল ৪ টি ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড ৬ টি বায়িং হাউজে প্রতিরাতে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। তবে সাধারণ জনগনের জীবন ঝুকির বিষয়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকে দ্বায়ী করছেন স্থানীয় জনগন।

প্রতিদিনের তামাক ক্রয়ের জন্য রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তামাক বহন করা গাড়ীগুলো কোম্পানীগুলোর ডিপোতে ঢোকানো হয় লোকজনসহ। বাহির থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই কত মানুষ ভিতরে আছে।তবে ভিতর থেকে বাহিরে আসা লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় রাতে তামাকের গাড়ির সাথেই কয়েক হাজার লোক ভিতরে ঢোকে এবং সকাল পর্যন্ত থাকে। তামাক পাতার বেল(৮০-১০০ কেজি পরিমান বান্ডিল) মার্কিং হয়ে গেলেই সবাই এক এক করে বেরিয়ে যায়। সারা রাত তারা ভিতরেই অবস্থান করে।ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ডিপোর সামনে ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে চুয়াডঙ্গা জেলার একজন চাষীর জানান রাত ১১টায় ভিতরে ঢুকেছি সকাল ৮ টার সময় বের হলাম এখন বাড়ি যাবো। ভিতরে কি পরিমান লোকজন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অনেক লোক ও গাড়ি আছে তাও কয়েক হাজার হবে।

এই মহামারীর ভিতরেও ঝুকি নিয়ে কেনো তামাক বিক্রয় করতে আসছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন তামাক কোম্পানী সার, বীজ, কীটনাশক ও নগদ টাকা দিয়েছিলো প্রথম বায়িংয়েই যে তামাক দেওয়া হয় সেখান থেকেই তাদের দেওয়া টাকা কেটে নেন। তারা আমাদের থেকে তাদের টাকা আদায় করার জন্যই এতো তোড়জোড়। আমরা এখন যদি বায়িংয়ে তামাক না দেই তাহলে তারা পরে তামাক নিবে না। একই এলাকার তামাক একজন তামাক ব্যাবসায়ী ও গাংনী উপজেলার কয়েকজন চাষী একই কথা বলেন।

জাপান টোব্যাকো ডিপোতে ৪টি বায়িং হাউজে প্রতিরাতেই এক থেকে দেড় হাজার লোক ঢুকে তামাক বিক্রয় করে। এক ডিপোতেই ৪ টি বায়িং হাউজ। প্রতিটি বায়িং হাউজে ১ হাজারের বেশি বেল তামাক ক্রয় করে।বিস্বস্ত সূত্রে জানাগেছে সবচেয়ে বেশি তামাক ক্রয় করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এর পূর্ববর্তী বছরগুলোতে দিনের বেলা তামাক কেনা হতো কিন্তু প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতেই কৌশলে রাতে তামাক ক্রয় করছে কোম্পানী। যেনো বাহির থেকে কিছু না দেখা যায় এবং বাহিরে কেউ যোনো ভিতরের জনসমাগম দেখে প্রশাসনকে কিছু না বলে সে জন্যই শুধু চাষী ও ব্যাবসায়ীদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।

সরকারী বিধি নিষেধ থাকা স্বত্ত্বেও কোম্পানীগুলো তামাক চাষীদের এই বিপদের ভিতরে কেনো ঘর থেকে বাহিরে নিয়ে আসছে জানতে ডিপোতে ঢুকতে গেলে কোম্পানীর নিরাপত্তাকর্মীরা ঢুকতে বাধা দেন। ফোনে যোগাযোগে- র চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তামাক পণ্য জনস্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর তাই জেলা প্রশাসন তামাকের নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ছিলো এবং থাকবে। তবে  তামাক ক্রয় যেহেতু নিষিদ্ধ নয় তাই হয়তো তামাক কিনছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের জনস্বাস্থ্য করোনা ভাইরাসের সংক্রামনে আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন। মেহেরপুরের ডিপেগুলোতে তামাক কোম্পানী সরকারী স্বাস্থ্যবিধির কোন রকম ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মাসুদ রানা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে