জানা যায়, পঞ্চগড়ের করোনা পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে খাদ্য বিভাগ থেকে গত রোববার পঞ্চগড় জেলা শহরে ৮ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ লাইনে দাঁডান চাল কেনার জন্য, কিন্তু বরাদ্দ কম থাকায় খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এই চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। বাকিরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন, আর এসময় বজায় থাকছে না সামাজিক দূরত্ব।
ভুক্তভোগীরা জানান, ১৩ দিন ঘরে করোনা পরিস্থিতিতে তারা ঘরে বসে রয়েছেন। বাইরে বের হতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে রয়েছেন। এদিকে ঘরে নেই চাল ডাল। সরকারি ত্রাণ সহায়তাও তাদের ভাগ্যে মিলেনি।
মঙ্গলবার পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ওএমএসের চাল বিক্রয়স্থলে গিয়ে দেখা যায় প্রতি ডিলারদের জন্য চাল বরাদ্দ ৫০০ কেজি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিজনকে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল দেয়া যাবে। সপ্তাহে রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার চাল বিক্রি করছেন তারা। ৫০০ কেজি চাল ডিলাররা মাত্র ১০০ জনকে দিতে পারবেন। অথচ লাইনে দাঁড়িয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। শুরুতে জন প্রতি ৫ কেজি করে চাল দিলেও পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ডিলাররা ৫ কেজি চালে পরিবর্তে ৩ কেজি করে দিতে শুরু করেন। তাও অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
পঞ্চগড় পৌর এলাকার বৃদ্ধ সামিউল ইসলাম বলেন, “আমি বৃদ্ধ মানুষ ঠেলাঠেলি করে লাইনে দাঁড়াতে পারি না। পেছনে দাঁড়াই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল পাইনি।”
পঞ্চগড় বকুলতলা এলাকার ডিলার মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, “আমরা ওএমএসের চালের দৈনিক যে বরাদ্দ পাচ্ছি তা কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও চাল পাচ্ছেন না। আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তাদের কাছে চাল বিক্রি করছি। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছে না। আমরা বার বার চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছি।”
পঞ্চগড় সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রথম দিন জেলা শহরের ৮ জন ডিলারকে সাড়ে ১২’ কেজি করে ওএমএসের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার দেয়া হয় ৫’শ কেজি করে। সামনে প্রতি ডিলারকে সাড়ে ৭’শ কেজি করে চালের বরাদ্দ দেয়া হবে।”
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আগে পৌরসভা এলাকাতে ওএমএসের চাল দেয়া হতো না। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে পৌরসভাতেও ওএমএসের চাল দেয়া হচ্ছে। ওএমএসের চালের বরাদ্দ নির্ধারিত। এর বেশি আসলে দেয়া সম্ভব নয়। এছাড়া দেখা যাচ্ছে একই পরিবারের দুই তিনজনও লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কিনছে। সেই ক্ষেত্রে আরেকজন বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সবাই যেন ওএমএসের চাল সমানভাবে পেতে পারে সেজন্য আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাল বিক্রির সময় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।”
ডিবিসি থেকে




























