শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়, কোলকাতা ঃ করোনার চিকিৎসায় এবার কিট তৈরি করবে কোলকাতা রাজ্য সরকার। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে লালারস সংগ্রহের বিশেষ আধার বা কিট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। নোভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের নমুনা দ্রুত পরীক্ষার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর।রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পদস্থ কর্ম কর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেহ থেকে সোয়াব অর্থাৎ লালারস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হয় ‘ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া’ নামক একটি কিটের। এবার সেই কিটটি-ই তৈরি করা হবে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। ইতিমধ্যেই সে বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের দাবি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ‘ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া’ তৈরি করা হলে দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এর ফলে নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের রিপোর্টও তাড়াতাড়ি হাতে পাওয়া যাবে। চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। এদিকে করোনায় মৃতদের সৎকারে রাজ্য সরকার নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যাবস্থা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত কোনও রোগীর মৃত্যু হলে এবার থেকে দক্ষিণ কোলকাতার ধাপায় দাহ হবে দেহ এবং দাফন হবে পূর্ব কলকাতার বাগমারি কবরস্থানে। ধাপায় পুরসভার জঞ্জালের ডাম্পিংগ্রাউন্ড যেখানে দাবিহীন দেহ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় দাহ করা হয় সেখানেই করোনায় ফের মারা গেলে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা হবে। অপর দিকে বাগমারির কবরস্থানের ভিতরেই আলাদা জায়গায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মৃতকে সমাধিস্থ করার হবে। এ ব্যাপারে সরকরী নির্দেশনায় বলা হয়েছে সংক্রমণে মৃত দেহ সৎকার করতে ২০জনের বেশী মানুষ সমবেত হতে পারবেনা। ওই প্রানঘাতি ভাইরাসের হামলা ঠেকাতে কোন জমায়েত চলবেনা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
গত সোমবার রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হওয়া পৌঢ় ব্যক্তির দেহ সৎকারের জন্য নিমতলা শ্মশান ঘাটে নেয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সৎকার করতে বাধা দেয়, তাদের বক্তব্য করোনায় মৃত রোগীর দেহ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পোড়ালেও আশেপাশের বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে ।এই টানা-পোড়েনের মধ্যে তিন ঘন্টা পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেহটি সেখানে সৎকার করা হয়। ভবিষ্যতে এই অশান্তি এড়াতেই সরকার উপরোক্ত ব্যাবস্থা নিয়েছে।
বুধবার এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘ রাজ্যে বা দেশে করোনায় আর কোনও মৃত্যু হোক আমরা চাই না। কিন্তু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনেই এই রোগে মৃতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। এদিকে করোনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের সহায়তার জন্য রাজ্য্ সরকার একের পর এক আর্থিক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। আপাতত দিন আনা দিন খাওয়া লোকদের এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি একটি স্টেট ইমার্জেন্স রিলিফ ফান্ড তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই ফান্ডে প্রবাসী ভারতীয়, শিল্পপতি-সহ সমাজের সকলপর্যায়ের বিত্তবানদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য করতে অনুরোধ করেছেন। এই ইমার্জেন্সি রিলিফ তহবিলে সাহায্য করার জন্য ইতোমধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে যার হিসাব নম্বর (A/C 628005501339)। কেউ যদি দরকারী জিনিসপত্র এবং চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করতে চান তাহলে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমারের সঙ্গে 9051022000 মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছেন। করোনার মোকাবিলায় বাম বিধয়করা করোনার চিকিৎসায় ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য দিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। রাজ্যে বিজেপির ১৮ সাংসদ সকলকে করোনার চিকিৎসায় ১ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাই কমান্ড থেকে। বিজেপি সাংসদরা বেশিরভাগই ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। ১.৬ কোটি টাকা দিয়েছেন সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় সাংসদ তহবিল থেকে দিয়েছেন ১ কোটি। বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার ১ কোটি টাকা দিয়েছেন। বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ৩০ লক্ষ টাকা ও সৌমিত্র খাঁ ৮০ লক্ষ টাকা। ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো। ৫০ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, রাজু বিস্ত, জন বার্লা ও কুনার হেমব্রম। সকলেই নিজের এলাকার উন্নয়ন তহবিল থেকে করোনার চিকিত্সায় অনুদান দিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




















