কভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় লকডাউনে ভারত। ইতোমধ্যে দেশের ২৮টি রাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ২২টি রাজ্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী এসব রাজ্য ও অঞ্চল হল, মহারাষ্ট্র, কেরালা, দিল্লি, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, অন্ধ্র প্রদেশ, তামিল নাডু, পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, পশ্চিমবঙ্গ, চন্ডিগড়, ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পাদুচেরি ও উত্তরখণ্ড। এর পাশাপাশি মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুসহ দেশটির ৮০টি শহর পুরোপুরি লকডাউনে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। সোমবার বিকেল ৫টা থেকে লকডাউন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সব শহর।
ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে ট্রেন, মেট্রো ও আন্তঃরাজ্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যেই মার্কেট, মল, সিনেমা, স্কুল, কলেজ ও জিম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার সকালে ভারতের মন্ত্রিসভা সচিব সবগুলো রাজ্যের প্রধান সচিবদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠক করার পর যে শহরগুলো লকডাউনে যাচ্ছে সেগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়। দেশকে বাঁচাতে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভারতকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশকে বাঁচাতে আগামী ২১ দিন বা তিন সপ্তাহ নিজ নিজ ঘরের মধ্যে থাকার অনুরোধ করলেন তিনি। এখন যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ নাগরিক তখনই বাঁচতে পারবেন, যখন আমরা নিজেদের ঘরের ভেতরে থাকব। কারণ এ ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে হবে। ভাঙতে হবে সংক্রমণের শৃঙ্খল। ভারত এমন ধাপে রয়েছে যে, যেখানে আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করে দেবে কতটা ক্ষতি এড়াতে পারি আমরা। তাই প্রতিটি পদে ধৈর্য ধরতে হবে। লকডাউনে ঘর থেকে না বের হওয়ার সংকল্প নিন। প্রাণ থাকলে দুনিয়া থাকবে।

দেশ জুড়ে কভিড-১৯ এ (নোভেল করোনাভাইরাস) আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তার জেরে এবার সারা দেশে আগামী তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন জারি থাকবে। ওই সময়ে দেশের কোনো নাগরিকের বাড়ির বাইরে পা রাখা উচিত নয় বলেও জানালেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদী আরো বলেন, চিন, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইটালিসহ এই দেশগুলির স্বাস্থ্য সেবা অত্যন্ত উন্নত। তার সত্ত্বেও কভিড মোকাবিলা করতে পারেনি তারা। তাই এ পরিস্থিতিতে উপায় কি? একটাই উপায়, যারা কভিড পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছেন তাদের থেকে শিক্ষা নেয়া।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ

























