ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে আতংক ছড়িয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন বাজারে চাল, আলু, পেয়াজ, আদা, রসুণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী।
এতে নিম্ন আয়ের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে যায় । সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে।তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার দুপুরে শহরের আনন্দ বাজারের চাল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইব্রাহীম ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়াকে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রী করার দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়া এই অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়াও ইব্রাহীম মিয়ার নিয়ন্ত্রিত শহরতলীর ঘাটুরা ও নাটাই গ্রামের ২টি গোডাউনে মজুদ করে রাখা ২৬৪৭ বস্তা চাউলের কোন সঠিক কাগজ পত্র দেখাতে না পারায় গোডাউন ২টি সিলগালা করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, আনন্দ বাজারের চাল ব্যবসায়ী জালাল মিয়া, জয়নাল মিয়া, সফিউল্লা মিয়া এবং ইব্রাহিম মিয়া সিন্ডিকেট করে চাউলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করে আসছিল।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, র্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। আমরা শহরের অন্যতম বৃহৎ বাজার আনন্দ বাজারে অভিযান পরিচালনা করি। পরে ইব্রাহিম মিয়ার সদর উপজেলার ঘাটুরা এবং নাটাই গ্রামে ইব্রাহিম মিয়ার দুটি চালের গুদামের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে আরো প্রায় ২৬৪৭ বস্তা চাল পাওয়া যায়। যেগুলোর বৈধ কোনো কাগজ পত্র তিনি দেখাতে পারেননি। যার কারণে ভ্রাম্যমান আদালত সেগুলো সিলগালা করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আদালতে উপযুক্ত প্রমানাদি ও কাগজ পত্র প্রদর্শন করার পর তার চালের গুদামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অভিযানে থাকা র্যাব ১৪ ভৈরব ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার রফিউদ্দিন মুহাম্মদ যোবায়ের জানান, এক শ্রেণীর সুযোগ সন্ধ্যানী অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় বাজারকে অস্থির করার মাধ্যমে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছি, প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।এছাড়াও দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস জগৎ বাজার ও সড়ক বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালায়।
এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে পণ্যদ্রব্য বিক্রী করার দায়ে ৮ জন ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্র্যাম্যমান আদালত। । এদিকে ভ্র্যাম্যমান আদালত পরিচালনার পর হতে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
জহির সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























