ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ হাওরের বুকে পিচঢালা পথের স্বপ্ন বহু বছর আগের। দিন পেরিয়ে মাস আর মাস পেরিয়ে বছর যায়, কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে না মানুষ। ফলে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয় বিজয়নগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তবে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে আর বেশি দেরি নেই। প্রতিদিন একটু একটু করে বাস্তবায়ন হচ্ছে তাদের স্বপ্নের সিমনা-বি.বাড়িয়া বা শেখ হাসিনা সড়ক। এই সড়কটির জন্য অনেক কৃষক তাদের জমির মাটিও দিয়েছেন। তবে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় সড়ক তৈরি করা অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বছরের ছয় মাস পানিতে টুইটুম্বুর থাকা হাওরে নির্মাণ সামগ্রী নিতেই বেগ পেতে হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি কোনো সংযোগ সড়ক নেই।

এই অবস্থায় জেলা সদর থেকে বিজয়নগর উপজেলা পৃথক হওয়ার আগে থেকেই বিরাজমা। গত ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বিজয়নগরকে জেলা সদর থেকে আলাদা করে উপজেলার মর্যাদা দেয় সরকার। ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয় বিজয়নগর উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে। সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্তমানে সরাইল ও আখাউড়া উপজেলা হয়ে জেলা সদরে আসতে হয় তাদের। এতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিজয়নগর উপজেলার পত্তন, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। হাওর পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য বর্ষাকালে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হাঁটা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

তাই পত্তন ইউনিয়নের সিমনা থেকে জেলা সদরের শিমরাইলকান্দি পর্যন্ত সড়ক তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দারা। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয় স্বপ্নের সিমনা-বি.বাড়িয়া সড়কের মহাকর্মযজ্ঞ। সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে শেখ হাসিনা সড়ক। সিমনা থেকে শিমরাইলকান্দি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এই সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়ক তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ১২৩ কোটি টাকারও বেশি। এই সড়কে তিতাস নদী ও বালিয়াজুরী এবং লইস্কা বিলের উপর তিনটি সেতুও রয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে ডলি কন্সট্রাকশন নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। গত তিন বছর ধরেই চলছে সড়কের কাজ। বছরের ছয় মাস পানি থাকার কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে ইতিমধ্যে সড়কের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ হাওরের বুকে দৃশ্যমান শেখ হাসিনা সড়কটি এখন বিজয়নগর উপজেলাবাসীর জন্য আঁধারে আলোর দিশাশীর মত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিমনা-বি.বাড়িয়া সড়কে চলছে  শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। বর্ষাকালে সড়কের ভাঙন রোধে দুইপাশে বসানো হয়েছে ব্লক। এছাড়াও সড়কের তিন সেতুর কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। এই তিন সেতুর কাজ শেষ করে ২০২১ সালের শেষদিকে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্তমানে সড়কটির কিছু অংশে ছোট-খাটো যানবাহন চলাচল করছে। এর ফলে স্বপ্নের এই সড়কের বাস্তবায়ন হতে দেখে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সড়কের কাজটিতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ ছিল। সব সমস্যা পেরিয়ে সড়কের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে আর পাঁচ-ছয়শ’ মিটারের কাজ বাকি আছে। আর তিন সেতুর নির্মাণ কাজে একটি অগ্রগতি ৪০, ২২ এবং ১৫ শতাংশ। আমরা আশা করছি ২০২১ সালের শেষদিকে সেতুগুলোর কাজ পুরোপুরি শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তখনই মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করতে পারবেন।আর বিজয়নগর বাসী পাবেন সহজেই সদরে আসার রাস্তা।

জহির  সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে