কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও হাসপাতালের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কুষ্টিয়া পেয়ারাতলায় অবস্থিত পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতাল তাদের মধ্যে একটি। এই হাসপাতালের সঠিক কোন বৈধ কাগজপত্র নেই, নেই কোন স্থায়ী ডাক্তার, অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা খুবই জঘন্য, নেই কোন যন্ত্রপাতি। হাসপাতেল মধ্যে ঢূকলে শরীরটা ঘিন ঘিন করে আজ এই উক্ত হাসপাতালে নগর সাঁওতা গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ওরফে রেশমাকে ভর্তি করেন বাচ্চা প্রসব করার জন্য সোমাবার দুপুরে অপারেশন করা হয়, পরবর্তীতে রেশমার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে রাজশাহীতে রেফার্ড করার পর-পরই তার মৃত্যু হয়। রেশমার পারিবারিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিবেদকের কাছে।

সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে পেয়ারতলার বাসিন্দারা বলেন, গত দুই বছরে এই হাসপাতালে আজকের মৃত্যু দিয়ে মোট মোট ১৩ জন প্রসূতি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা আরও বলেন পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতাল এখন কশাইখানায় পরিণত হয়েছে, এখানে বেশীর ভাগ সময় হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানো হয়। একারনেই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশী হচ্ছে। সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল মালিক দেলোয়ার হোসেন রুবেল উপর মহলকে ম্যানেজ করে যত্রতত্র ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফাতেমা খাতুন ওরফে রেশমার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা পুলিশ পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিজান চালায়, অভিজানের আগেই মালিক দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জেসমিনসহ সকলেই পালিয়ে গেলে ওখানে কর্মরত দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের আ: গফ্ফারের ছেলে হারুনুর রহমান নিশান(২০)কে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আছে সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে বলে এস আই ফিরোজুল ইসলাম জানান।
ফাতেমা খাতুন ওরফে রেশমার মৃত্যুর বিষয়ে মালিক দেলোয়ার হোসেন রুবেলের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা এখন পালিয়ে আছি আমাদের চারজনকে ধরে নিয়ে গেছে অথচ আমরা কুষ্টিয়া মডেল থানায় গিয়ে পেলাম নিশান নামের এক কর্মচারীকে। অপারেশন কে করেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ডা: আবু সাঈদ করেছেন। এ বিষয়ে নিউজ না করার জন্য প্রতিবেদককে উৎকোচ দিয়ে ধামা চাপা দিতে চেয়েছেন।
অপারেশন কে করল বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য চৌড়হাস উপজেলা রোডে অবস্থিত ইসলামিয়া হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার ডা: আবু সাঈদ এর সাথে যোগায়োগ করার জন্য ইসলামিয়া হাসপাতালের মালিক মোশারফ হোসেন নিজামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ডা: আবু সাঈদতো এখন নাই তবে পদ্মা ক্লিনিকে অপারেশনে যে মহিলা মারা গেছে তার অপারেশন করেন মেডিকেল এ্যসিসট্যান্ট নান্নু। তার কিছুক্ষন পর নিজামের মুঠোফোন থেকেই ডা: আবু সাঈদ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন আমি অপারেশন করি নাই, আমি যদি অপারেশন করি তাহলে তাদের রেজিষ্টারে আমার নাম থাকবে ভাল করে খোঁজ নিয়ে দেখেন।
এই দোষাদোশির বিষয়টা নিয়ে মেডিকেল এ্যসিসট্যান্ট নান্নুকে ফোন দিলে তিনি বলেন, দুপুরে অপারেশন হয় ঐ সময় আমি হাসপাতালে কর্মরত ছিলাম তিনি এটাও বলেন আমিতো ডাক্তার না যে আমি অপারেশন করব তাছাড়াও আমার চাকরী আগে চাকরী ছেড়ে আমি ঐ সময় অন্য কোথাও যাই নাই। একে অন্যের ঘারে অপারেশনের বিষয়ে দোষ চাপানোর বিষয়ে পূনরায় দেলোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি লাইন কেটে দেন। কুষ্টিয়া পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতাল এখন কশাইখানায় পরিণত হওয়ার বিষয়ে কষ্টিয়া শহর এখন ‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়ে পড়েছে।
ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কশাইখানা পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মৃত ফাতেমা খাতুন ওরফে রেশমার স্বামী আব্দুর রশিদ ও পেয়ারাতলার এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে