ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস । প্রতিবছরই অনেক আড়ম্বর করে, অনেক ব্যয় করে অনেক আনুষ্ঠানিকতা করে দিনটি পালন করে থাকেন শহুরের  মানুষেরা। কিন্তু আশুগঞ্জের চাতাল-কন্যারা নারী দিবস কি বা নারী দিবসে তাদের করণীয় কি তা জানা নেই এই চাতাল কন্যাদের। যেমনটা জানতে পারেন না এ দিবসটি  পালনের কথাও। প্রতিদিন ঘুম ভেঙেই  চোখ মুছতে মুছতে তাদের দৌড়াতে হয় চাতালে। সেই ফাঁকে স্বামী-সন্তানদের জন্য রান্না-বান্নাও সারতে হয়।

দেশের যে কোনো স্থানের চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এখন চাতাল কল সব চাইতে বেশি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ। রেল, সড়ক ও নৌপথে  সহজেই এখানে কাঁচামাল  পৌঁছানো যায়। তা ছাড়া এখানে শ্রমমূল্যও অনেক কম। সে কারণে এখানে চালকল ব্যবসার বিকাশ ঘটেছে দ্রুত ।

আশুগঞ্জে চাতাল কন্যারা প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়  পরিশ্রম অনুযায়ী যা বেতন পান তা দিয়ে একবেলা খেয়ে অন্যবেলা না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

এখানে নিয়োজিত আছে প্রায় ২০ সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ চাতাল শ্রমিক। দিন রাত বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে মানুষের অন্ন যোগানো এই শ্রমিকেরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন যুগের পর যুগ। তাদের ঘাম ঝরা পরিশ্রমে নামে মাত্র মজুরী  দিয়ে চাতাল মালিকরা বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়ছেন।এই বৈষম্যতা দুর করে তাদের জন্য নির্ধারিত বেতন ভাতা করার জোর দাবী জানান সরকার ও মালিক পক্ষের  কাছে।

জহির সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে