কভিড-১৯ এর সংক্রমণের কারণে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে যাত্রী পরিবহনকারী উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো। আর লোকসানের পরিমান দাঁড়াতে পারে ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এ শঙ্কার কথা জানিয়েছে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জোট ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। নতুন এই হিসাব অনুযায়ী দুই সপ্তাহ আগের পূর্বাভাসের তিন গুণ বেশি।
কোভিড-১৯ এর প্রকোপের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থা। আর ব্যাহত হচ্ছে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজ চলাচল। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও এই ভাইরাসের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইব বাধ্য হয়েছে কার্যক্রম বন্ধ করতে।
এমনকি বিশ্বব্যাপী কয়েক হাজার ফ্লাইটও বাতিল এবং স্থগিত হয়েছে। অনেক এয়ারলাইন্স কর্মীদের অবৈতনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। আবার অনেক পাইলট ও কর্মীরা সংক্রমণের ভয়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন না।
এ অবস্থায় আকাশপথের ক্ষতি নিরূপণে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জোট আইএটিএ নিজেদের পূর্বাভাস আবারও বদলেছে। সংস্থাটির নতুন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার থেকে ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
তবে এটি নির্ভর করছে ভাইরাসটি ছড়ানোর ওপর। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, ক্ষতি হবে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
আইএটিএ’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান পিয়ার্স জানান, কভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের প্রভাব আকাশপথের রাজস্বেও পড়বে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আমাদের পরিসংখ্যান ছিল। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করেছে। ক্ষতির পরিমান ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সামনের দিনগুলো উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আসছে।
এ সময় জরুরি অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২০ সালে বিমানবন্দরের স্লট বিধিমালা স্থগিতের আহ্বানও জানিয়েছে আইএটিএ।
ব্রায়ান পিয়ার্স আরো জানান, বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রণকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি এই শিল্পকে বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করার জন্য সাময়িকভাবে স্লট ব্যবহার বিধিমালা স্থগিত করা হোক। কারণ, কোভিড-১৯ এর প্রকোপ দেখা যায়নি এমন দেশগুলোতেও ব্যাহত হচ্ছে উড়োজাহাজ চলাচল।
তাই বিধিমালা অনুযায়ী, উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে তাদের বরাদ্দ করা স্লটের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ব্যবহার করতে হবে। তা করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ভ্রমণ মৌসুমে তাদের স্লট হারায়।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট














