ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ আশুগঞ্জ সার কারখানা (এএফসিসিএল) থেকে নির্গত বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাবে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস কারখানার আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এর তীব্র প্রভাবে পুরো এলাকায় বাতাসে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা আরো মাসখানেক থাকতে পারে বলে কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক (এমডি) প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তীব্র মাত্রায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের শ্বাসনালি জ্বালাপোড়া, চোখের প্রদাহ, চোখ ও নাক জ্বালাপোড়া, শ্বাসনালি শুকিয়ে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ, মাথাঘোরা, খাদ্যনালিতে প্রদাহসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
কারখানার আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরই এভাবে কারখানার বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, গেল বছর অ্যামোনিয়ার বিষক্রিয়ায় পাশে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ কয়েকটি শিল্প-কারখানায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বিদেশি শ্রমিকসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
ফলে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গমন বন্ধ করতে কোম্পানির নিকট দরখাস্ত করেও কোন প্রতিকার মেলেনি। পরে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়েও লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ভূক্তভোগিরা।এবছর আবার বাতাসে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া ছড়িয়ে পড়া এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ভূমিকায় এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ধুমায়িত হয়ে উঠছে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর এলাকায় টেকাই দায়। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখলেও ঝাঁঝালো গন্ধে চোখ জ্বালাপোড়া করে। এতে নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এতে এলাকার বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অ্যামোনিয়ার দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় ভাড়াটিয়া আসতে চায় না।
ইতোম্যেই অনেকে অ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। অবিলম্বে এই বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা না হলে পুরো এলাকায় মহামারী নেমে আসবে বলে স্থানীয়দের দাবি।এদিকে দীর্ঘস্থায়ী অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে জনজীবন, উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলে বিপর্যয় নামার পাশাপাশি পারিপার্শি^ক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে পরিবেশবাদীরা দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নপুর সাহা জানান, অ্যামোনিয়া বিপজ্জনক গ্যাস। এ গ্যাসে ফুসফুস ও বুক আক্রান্ত হয়। এর প্রভাবে কাশি, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে মানুষ অন্ধও হয়ে যেতে পারে। দেহের স্নায়ুবিক ব্যবস্থাতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে এই গ্যাস।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মোঃ হাবীবুর রহমান বলেন, ৩৮ বছর পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েই কারখানার উৎপাদন চলছে। আয়ুস্কাল পেরিয়ে যাওয়ায় প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তিনি বলেন, অ্যামোনিয়া ট্যাঙ্ক ওভারফ্লো হলে বাধ্য হয়ে গ্যাস বাহিরে ছেড়ে দিতে হয়। তা না হলে ট্যাঙ্ক ব্রাস্ট হয়ে মারত্মক এক্সিডেন্টের ভয় থাকে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে কারখানা বন্ধও রাখা যাচ্ছেনা। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
বৃহতর স্বার্থে একটু কষ্ট মেনে নিতে হবে। অ্যামোনিয়া নির্গমন বন্ধ হতে প্রায় মাসখানেক লাগতে পারে বলে তিনি জানান।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ নুরুল আমিন জানান, তিনি অ্যামোনিয়া নির্গমনের খবর পেয়ে সার কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এমডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ অবস্থার দ্রুত সমাধান ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জহির সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














