কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের ব্যাংকিং খাত জিম্মি বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। খেলাপিদের সুযোগ দেয়ার পরও ঋণ না কমাকে উদ্বেগজনকও বলছেন তিনি। তবে সরকারের ব্যাংক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন দেবপ্রিয়। শনিবার ব্যাংক কমিশন গঠন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে নিয়ে সিপিডি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানেই দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৫-১৬ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংক খাতের কার্যক্রম মূল্যায়নে কমিশন গঠনের কথা জানান সাবেক অর্থমন্ত্রী আবদুল মাল আবদুল মুহিত। গেল বছর নতুন অর্থমন্ত্রী একই কথা বললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকিং কমিশন গঠনে আলোচনা চলছে। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সিপিডি। আস্থা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার সংকট কাটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ঠিক রেখে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। একটা আতঙ্ক, ভয়ংকর, ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছি। খেলাপি ঋণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। আর লুকিয়ে আছে মূলধন-ঘাটতি, নিরাপত্তা সঞ্চিতির মতো আরও অনেক সূচক। আর এর ফলে মানুষের ব্যাংকে টাকা রাখার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। সুদহার নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক যে নীতিমালা দিচ্ছে, তার বরখেলাপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এমন মানুষকে ব্যাংক কমিশনে আনতে হবে, যাদের দক্ষতা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও সততা থাকবে। তারা যাতে নির্মোহভাবে কাজ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাদের রাজনৈতিক সমর্থন দিতে হবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তারা যে সুপারিশ করবেন, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক উদ্যোগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, সিপিডি এই কমিশনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের মতামত তুলে ধরবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি করে অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারত সরকার এ জাতীয় উদ্যোগ নিয়েছে। আমরাও এটা করতে পারি। তিনি বলেন, ব্যাংক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। তবে সেই সমর্থন শর্তসাপেক্ষ। শর্তটি হলো এই কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














