আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩ তম জন্মবার্ষিকী ২৫ জানুয়ারি পালিত হয়ে গেল। এ উপলক্ষ্যে  কবির জন্মস্থান যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে আয়োজন করা হোয় সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা।  মধুমেলা ও কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মধুমেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন যশোরের সকল সংসদ সদস্য সদস্য ছাড়াও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। মেলায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত যশোর ও কেশবপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ঊনিশ শতকের নবজাগরণের অন্যতম প্রতিভা বাংলাকবিতার প্রথম আধুনিক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। নব্যবাংলার সাহিত্য পূর্ণরুপে আত্মপ্রকাশ করে তারই হাত ধরে। বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী মধুসূদনের জীবনাচরণ ছিল বিস্ময়কর। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।মাইকেল মধুসূদন দত্ত অবিভক্ত বাংলার যশোহর জেলায় কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। মধুসূদনের পিতা ছিলেন মহামতি রাজ নারায়ন দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবী। তিনি ছিলেন পিতামাতার বড় সন্তান।মধূসুদন ছিলেন রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহনের প্রিয়ছাত্র, অতিশয় প্রিয়পাত্র। তাঁর বাড়িতে মধুসুদন নিয়মিত যাতায়াত করতেন। মধুসুদন তাঁর সুন্দরী কন্যার প্রেমে পড়েন। মূলত কৃষ্ণমোহনের কন্যাকে বিয়ে করার জন্যই মধুসুদন খৃস্টধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু বিবাহের আগে খৃস্টধর্ম গ্রহণের অব্যবহিত পরেই মধুসুদনের পিতা জমিদার নারায়ণচন্দ্র দত্ত অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেন। সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত মধুসুদন নিঃস্ব হলে কৃষ্ণমোহন তাঁর কন্যাকে বিবাহ দিতে অস্বীকার করলেন।

এরপর তিনি ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজ যাত্রা করেন। সেখানে প্রবাসকালে শিক্ষক, সাংবাদিক ও কবি হিসেবে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং ইংরেজ রমণী রেবেকা ম্যাক্টাভিসকে বিবাহ করেন।১৯৬২ সালে বিলেতে ব্যারিষ্টারী শিক্ষাগ্রহনের জন্য গ্রেজইন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৮৬৩ সালে ফ্রান্সে গিয়ে ভার্সাই নগরে সপরিবারে থাকতে শুরু করেন। এই সময়ে তাঁর তীব্র অর্থাভাব দেখা দেয় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় টাকা পাঠিয়ে কবিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। ব্যারিষ্টারী শিক্ষা শেষে ১৮৬৭ সালে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৮৭০ সালে সুপ্রিম কোর্টে চাকুরী গ্রহন করেন। পরে মালভূম পঞ্চকোট রাজার উপদেষ্টা পদে চাকুরী নেন।

আইন ব্যবসায়ে তিনি তেমন সাফল্য লাভ করতে পারেননি। অমিতব্যয়ী স্বভাবের জন্য ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। শেষজীবনে মৃত্যুশয্যায় বেঙ্গল থিয়েটারের কর্ণধার শরৎচন্দ্র ঘোষের অনুরোধে তিনি মায়াকানন নাটকটি রচনায় হাত দিলেও শেষ করতে পারেননি। মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। ১৮৭৩ সালে অনাহারে রোগশয্যায় চিকিৎসাহীনতায় ভুগে ২৯শে জুন কলকাতার আলিপুর দাতব্য চিকিৎসালয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরনিদ্রায় শায়িত হন যশোর জেলার প্রথম ব্যারিষ্টার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

তার সাহিত্যকর্ম
কাব্যঃ মেঘনাদবধ কাব্য, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, দি ক্যাপটিভ লেডী, ব্রজাঙ্গনা কাব্য
নাটকঃ শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী, পদ্মাবতী
প্রহসনঃ বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা।

রিয়ানা হাবিবা, বিডি টাইমস নিউজ ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে