কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারী না থাকায় উচ্চ আদালতে রিট করার নামে প্রায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটায় এখনও কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গত ২০০২ সালে ইট ভাটায় ড্রাম চিমনি’র ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এর পরবর্তীতে গত ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ইটভাটায় ১’শ ২০ ফিটের ফিক্সট চিমনি ব্যবহারও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। শুধুমাত্র জিগজ্যাগ জাতীয় ইটভাটাগুলো বৈধ ঘোষণা করেন।

সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৩০ থেকে ৪০টি ভাটা জিগজ্যাগ জাতীয়, ৮০ থেকে ৯০টি (১’শ ২০ ফিটের) ফিক্সট চিমনি ও ২৫ থেকে ৩০টি ড্রাম চিমনি রয়েছে। এ বছর কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি ড্রাম চিমনি’র ইটভাটাই ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রাম চিমনি ও কাঁচা ইট ভেঙ্গে ধ্বংস করে দেন। এর পরবর্তীতে আবারও ওই চক্র ভাটা নির্মাণ করে অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রাম চিমনির ইটভাটা নির্মাণ করে কাঠ দিয়ে অবাধে ইট পুড়ানো হচ্ছে। তাদের দেখা দেখি অন্যান্যরা স্ব স্ব স্থানে ড্রাম চিমনি’র ইটভাটা গড়ে তুলেছে।

বিশেষ করে কুষ্টিয়ার শহরতলীর গড়াই নদীর চর এলাকা, তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের চারুলিয়াসহ বেশকয়েকটি স্থানে ভ্রামমান আদালতের অভিযান না থাকায় ইটভাটা মালিকরা বীরদর্পে অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে ড্রাম চিমনির ইটভাটাগুলোতে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরী করে আসছে। এছাড়াও বর্তমান এ জেলাই শতাধিক ইটভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানোর জন্য বিপুল পরিমান কাঠের খড়ি মজুদ করা হয়েছে। দেশের বনজ সম্পদ উজাড় করে প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক খড়ি কুষ্টিয়ার ইটভাটাগুলোয় নিয়ে আসা হচ্ছে। সরকারি নিয়মনীতির কোন রকম তোয়াক্কা না করে এখানকার ইটভাটা মালিকরা তাদের ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের খড়ি আমদানির প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছেন। অবৈধ ভাবে সমান তালেই চলছে ১’২০ ফিটের ফিক্সট ও ড্রাম চিমনি।
বর্তমান কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় দেড়শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। পরিবেশ বান্ধব এলাকায় ইটভাটা স্থাপন এবং ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও এ জেলায় তা কোন ভাবেই মানা হচ্ছেনা। সরকারি নির্দেশ মতে ১’শ ২০ ফুট ফিক্সট ও ড্রাম চিমনির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও এখানকার ইটভাটা মালিক সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করে আদালতে রিট করার নামে ১’শ ২০ ফিটের ফিক্সট চিমনিসহ আগের সেই ড্রাম চিমনি এখনও ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয় কয়েকটি ইটভাটায় অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে কাঠ চিরে ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।

ইতিপূর্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১৯টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ৬টি, ড্রাম চিমনি রয়েছে ১১টি ও জিগজ্যাক রয়েছে ২টি। দৌলতপুর উপজেলার ২৬টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ১৭টি, ড্রাম চিমনি রয়েছে ৮টি ও জিগজ্যাক ১টি। কুমারখালী উপজেলায় ১৮টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ৮টি, ড্রাম চিমনি রয়েছে ২টি ও জিগজ্যাগ রয়েছে ৮টি। খোকসা উপজেলায় ৮টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ১টি ও জিগজ্যাক রয়েছে ৭টি। মিরপুর উপজেলার ২৬টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ২৩টি, ড্রাম চিমনি রয়েছে ১টি ও জিগজ্যাগ ২টি। ভেড়ামারা উপজেলার ৩২টি ইটভাটার তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সট চিমনি রয়েছে ৩০টি ও জিগজ্যাগ ২টি।

তবে উল্লেখিত তালিকার মধ্যে বেশ কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে ও বেশ কয়েকটি নতুন ভাটাও স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ইটভাটা গুলোয় জ্বালানি হিসেবে শুধুমাত্র কয়লা ব্যবহারের জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও এ জেলায় সরকারের এ নির্দেশ কিছুতেই মানা হচ্ছেনা। কয়লার পরিবর্তে এখানকার প্রতিটি ইটভাটায় মজুদ করা হচ্ছে বিপুল পরিমান খড়ি। বনজ সম্পদ উজাড় করে দেশের দক্ষিন অ ল থেকে প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক খড়ি এসব ইটভাটায় মজুদ করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এসব খড়ি বোঝাই ট্রাক প্রতিদিন নির্বিঘ্নে পারাপার হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আতাউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া জেলায় সর্বমোট ১৪৩ টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৪০টি ইটভাটা বৈধ। তিনি বলেন, আমরা এ বছর কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও কুমারখালী উপজেলায় ৯টি অভিযান চালিয়েছি। অভিযানে ২৯টি ভাটার মধ্যে ১১টি ভাটা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ও জড়িমানা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন, ভাটা মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট করার কারনে অনেক ভাটা অবৈধ হলেও তা ভেঙ্গে দেয়া যাচ্ছে না। তবে আগামীতে আরও অভিযান চলবে। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালত আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে