স্টাফ রিপোর্টারঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দীনের এমপিও প্রদানের গোমর ফাঁস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, ২০০৮ সালে অধ্যক্ষ পদে কামাল উদ্দিন যোগদানের পর দীর্ঘ ১২ বছর তিনি অধ্যক্ষ পদে এমপিও ভূক্তি হতে পারেন নাই। কারণ তিনি মাষ্টার্স এর রেজাল্ট প্রকাশিত না হওয়ার পূর্বে ১৯৮৬ সালে প্রভাষক পদে ১৪/০৭/১৯৮৬ তারিখে যোগদান করার ১০ দিন পর ২৪/০৭/১৯৮৬ সালে রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। এই বিষয়টি নিয়েই তার সমস্ত চাকরী জীবনে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে গ্যানজাম চলে আসার পর ২০০৮ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পায়।
নিয়োগ পাওয়ার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও অধ্যক্ষ পদে এমপিও না হওয়ায় অবশেষে প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সহায়তায় গত ২৬/০২/২০১৯ তারিখে এমপিও ভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) সৈয়দ জাফর আলীর স্বাক্ষরিত ০৬/০৪/২০১৯ তারিখের স্মারক নং ৬সি/৮(ক-৩)/২০০১/২৪২৫/২ মোতাবেক অধ্যক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। উক্ত পত্রে এমপিও ভুক্তির আবেদন মঞ্জুর না করা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে নিম্নে তার নামের পাশে বর্নিত আপত্তি থাকায় এমপিও ভুক্ত করা সম্ভব হল না। কারণ তার যোগদানের ১০ দিনের গ্যাপ নিয়ে জঠিলতা থাকায় এমপিও না করে ফেরত পাঠায় মাউশি দপ্তর।
পরবর্তীতে সাবেক সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) বর্তমান উপপরিচালক পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) সৈয়দ জাফর আলী বদলী হয়ে নিজে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে অধ্যক্ষের সাথে যোগ সাজসে আপত্তি থাকা স্বত্বেও পরবর্তীতে অধ্যক্ষের এমপিও প্রদান করেন। অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিঃ তারিখে অবসরে যাবেন বলে জানান তিনি। অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ, জেষ্ঠতা লংঘন করে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগসহ বিবিধ অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সৈয়দ জাফর আলী পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক থাকাকালীন জামায়াত বিএনপি জোট সরকারের আমলে বর্তমান বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর নির্দেশে পান্টি ডিগ্রী কলেজের তদন্ত না করেই ফিরে যান। সৈয়দ জাফর আলী ঘুরে ফিরেই মাউশি ও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে আবারো পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন।
তবে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনের প্রভাষক পদে নিয়োগ জঠিলতা ও জেষ্ঠতা লংঘনসহ বিবিধ অভিযোগ ছিল তবুও তিনি সকলকে ম্যানেজ করে সহকারী অধ্যাপক পদও হাকিয়ে নেয় পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলেও তার বিরুদ্ধে বিবিধ দূর্নীতির অভিযোগ থাকায় এমপিও ভূক্তি করাতে পারেন নাই দীর্ঘ ১২ বছর। চলতি বছরে তিনি সাবেক সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) বর্তমান উপপরিচালক পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) সৈয়দ জাফর আলীর যোগ সাজসে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে আপত্তি থাকা স্বত্বেও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভাবে তাকে অধ্যক্ষের এমপিও প্রদান করেন।
অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনের এমপিও প্রদানের সাথে সৈয়দ জাফর আলীসহ কারা-কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন উক্ত কলেজের সাধারন শিক্ষক থেকে শুরু করে এলাকার সর্বস্তরের জনগন।
শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














